ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে শিরোপা দৌড়ে থাকা আর্সেনাল গতকাল শনিবার ৪-০ গোলে লিডস ইউনাইটেডকে উড়িয়ে দিয়ে শীর্ষে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করেছে । অন্যদিকে, নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে জয় তুলে নিল চেলসি ও লিভারপুল । ২২ বছর পর প্রথম লীগ শিরোপার স্বপ্নে এগিয়ে চলা আর্সেনাল শেষ তিন ম্যাচে সম্ভাব্য ৯ পয়েন্টের মধ্যে মাত্র ২ পয়েন্ট পাওয়ার পর মানসিক দৃঢ়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল । তার ওপর বুকায়ো সাকার ইনজুরি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। তবে বদলি হিসেবে নেমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ননি মাদুয়ে। তার ক্রস থেকেই মার্টিন জুবিমেন্দির হেডারে প্রথম গোল। পরে আরেকটি বিপজ্জনক ক্রসে লিডস গোলরক্ষক কার্ল ডার্লোর হাতে লেগে বল জালে ঢুকে পড়ে আত্মঘাতী গোল। দ্বিতীয়ার্ধে ভিক্তর গিয়োকেরেস ও বদলি হিসেবে নামা গ্যাব্রিয়েল জেসুস গোল করে স্কোরলাইন ৪-০ করেন।
এই জয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার সিটি ও অ্যাস্টন ভিলা থেকে আর্সেনালের লিড দাঁড়াল ৭ পয়েন্টে। টানা তিন মৌসুম রানার্সআপ হওয়ার পর এবার যেন শিরোপার পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেল গানার্সরা।
অন্য ম্যাচে প্রথমার্ধে ওয়েস্ট হ্যামের কাছে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে চেলসি। বিরতির সময় তিন বদলে দেয় ম্যাচের মোড়। জোয়াও পেদ্রো ও মার্ক কুকুরেয়া সমতা ফেরান, আর যোগ করা সময়ে এনজো ফের্নান্দেজের গোলে নাটকীয় ৩-২ জয় পায় চেলসি। এই জয়ে তারা উঠে আসে লীগের শীর্ষ চারে।
অ্যানফিল্ডে নিউক্যাসলের বিপক্ষে প্রথমে পিছিয়ে পড়ে লিভারপুল। কিন্তু মাত্র দুই মিনিটে হুগো একিতিকে দুই গোল করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। বিরতির পর মোহাম্মদ সালাহর পাস থেকে উইর্তজের গোল, এরপর ইব্রাহিমা কোনাতের আবেগঘন গোল, সব মিলিয়ে ৪-১ ব্যবধানে জয় পায় লিভারপুল।
বার্সার স্বস্তির নিঃশ্বাস
গতকাল শনিবার লা লিগার ম্যাচে শেষ পর্যন্ত এলচের বিপক্ষে ৩-১ গোলের ব্যবধানে জিতে শীর্ষস্থান আরও দৃঢ় করেছে বার্সেলোনা। ম্যাচের শুরুতেই লামিনে ইয়ামালের দুর্দান্ত ফিনিশ বার্সাকে এগিয়ে দেয়। ধীরে ধীরে এলচে ম্যাচে ফেরে, আর আলভারো রদ্রিগেসের গোলে সমতা ফিরিয়ে আনে তারা। এরপর শুরু হয় বার্সেলোনার ফিনিশিংয়ে ভয়ঙ্কর ব্যর্থতা।
একের পর এক শট পোস্টে লাগে, কখনো ক্রসবারে, কখনো গোললাইন থেকে বল ফিরিয়ে দেন এলচের ডিফেন্ডাররা। তোরেস, রাফিনিয়া, ফারমিন কেউই সুযোগ কাজে লাগাতে পারছিলেন না। এক পর্যায়ে একই আক্রমণে দু’বার পোস্টে বল লাগার দৃশ্য যেন পুরো ম্যাচের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে। পুরো ম্যাচের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন ইয়ামাল। তার গতি, ড্রিবল আর সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা এলচের রক্ষণভাগকে বারবার ছিন্নভিন্ন করেছে। শেষ পর্যন্ত আবারও ম্যাচে প্রাণ ফেরান ফেরান তোরেস। গোল করে বার্সাকে আবার এগিয়ে দেন। এলচে পাল্টা আক্রমণে বারবার ভয় ধরাচ্ছিল, আর বার্সার ডিফেন্সে প্রতিটি ভুলই হয়ে উঠছিল সম্ভাব্য বিপর্যয়।