image
প্রস্তাবিত কমপ্লেক্সের নকশা

ত্রিশালে দেশের প্রথম অলিম্পিক কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

ক্রিকেট, গলফ, রোইং বাদে ইনডোর, আউটডোর মিলিয়ে ৩৩টি ডিসিপ্লিনের খেলা এই কমপ্লেক্সে আয়োজন করা যাবে

ক্রীড়া বার্তা পরিবেশক

আধুনিক ক্রীড়াঙ্গণের স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুর করেছে বাংলাদেশ। ক্রীড়াবিদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের কাজও শুরু হয়েছে ক্রীড়া কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে। রোববার, (০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) ময়মনসিংহের ত্রিশালে অলিম্পিক কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সভাপতি ও সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। রাজধানী ঢাকা থেকে ৮৬ কিলোমিটার, ময়মনসিংহ শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার দুরে ১৭৩.২ একর জায়গার উপর এই অলিম্পিক কমপ্লেক্সের অবস্থান। কমপ্লেক্সে যাতায়াতের জন্য আরো ৯ একর জায়গা সেনাবাহিনী নিজ অর্থায়নে কিনেছে।

অলিম্পিক কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে প্রকল্প পরিচালক কর্নেল মো. কুতুবউদ্দিন খাম মাস্টারপ্ল্যান প্রদর্শন করেন। ৩টি ইনডোর, ফুটবল, হকি, টেনিস, অ্যাথলেটিক্স, আবাসন, মিডিয়া সেন্টার, পার্কিং, শুটিংসহ সকল আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে এখানে। ইনডোর,আউটডোর মিলিয়ে ৩৩টি ডিসিপ্লিনের খেলা এই কমপ্লেক্সে আয়োজন করা যাবে। ক্রিকেট, গলফ, রোইং বাদে হাতেগোনা কয়েকটি খেলাই শুধু বাদ থাকছে। ক্রিকেট দেশের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা। বিওএর সভাপতি এই কমপ্লেক্স ক্রিকেটের সুযোগ-সুবিধা প্রদানও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এতে মাস্টারপ্ল্যানে আরেকটু রদবদল হতে পারে। অলিম্পিক কমপ্লেক্সের কনস্ট্রাকশন দেখভাল করছে সেনাবাহিনী ২৪ বিগ্রেড। দেশী প্রকৌশলী প্রতিষ্ঠান ভিত্তির সঙ্গে রয়েছে আমেরিকান ডিএলএ। যাদের বিশ্বের অনেক বড় বড় স্টেডিয়াম ও ক্রীড়া স্থাপনা নির্মাণের অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিদেশি প্রতিষ্ঠান নেয়ার কারণ সম্পর্কে ভিত্তির স্থাপতি ইকবাল হাবিব বলেন, ‘ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণে আমাদের অভিজ্ঞতা নেই। তাই বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শক হিসেব নেয়া হয়েছে।’

অলিম্পিক কমপ্লেক্স ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন হলেও পুরোদমে কাজ শুরু হতে অর্থের জন্য অপেক্ষা। বিওএর সভাপতি ও সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘যত তাড়াতাড়ি অর্থ, তত তাড়াতাড়ি কমপ্লেক্স। সব কিছু প্রস্তুত, শুধু বাধা অর্থের। এই অর্থ সংস্থানে আমাদের সচিব (ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের) গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। আমরা গালফ কান্ট্রিস এবং আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সহায়তাও নেব। সকলের সহায়তায় আমরা কমপ্লেক্স করব।’

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব উল আলম বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য স্বপ্নের স্থাপনা হবে। আর্থিক বিভাগের সঙ্গে কথা হয়েছে - আইনগত বাধা নেই, কারন এটা ক্রীড়াঙ্গনের অবকাঠামো। যত ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন করা হবে।’ বিওএর অন্যতম সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল হাই সরকার ব্যাংকের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন, ‘এ রকম ক্রীড়া কমপ্লেক্সের উদ্যোগ আরো আগেই নেয়া দরকার ছিল, দেরিতে হলেও হচ্ছে। ব্যাংকের পক্ষ থেকে অবশ্যই সহায়তা করা হবে।’ কমপ্লেক্স তৈরী করতে কি পরিমান অর্থের প্রয়োজন, তাও জানালেন স্থাপতি ইকবাল হাবিব, ‘প্রাথমিকভাবে প্রকল্প-১ ( একটি ইনডোর স্টেডিয়াম, জমি উন্নয়ন ও অন্যান্য) তৈরী করতে দুই হাজার কোটি টাকা লাগবে। সময় লাগবে দুই থেকে আড়াই বছর। পুরো মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করতে ৩৪-৩৮ হাজার কোটি লাগবে। পরবর্তী সরকার এটি গুরত্ব দিলে এবং অর্থ একসঙ্গে পাওয়া গেলে ৫-৬ বছরে কাজ শেষ করা সম্ভব হতে পারে।’

সেনাবাহিনীর জায়গার উপর কমপ্লেক্সে হলেও বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন এটা ব্যবহার করবে। এ নিয়ে একটি সমঝোতা স্বাক্ষর হবে। বিওএ সভাপতি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট এখানে হবে। জাতীয় প্রতিযোগিতাও হবে। অন্য সময়ে সেনাবাহিনী অনুশীলন করবে। অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন ও আর্মি মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হবে শিগগিরই।’ বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে ক্রীড়াঙ্গনে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন কঠিনই।

এরপরও আশাবাদী বিওএ সভাপতি, ‘আমাদের তরূণ সমাজ খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী। তারা ফ্যাসিলিটিজ পায় না। কাজ শুরু হলে শেষ হবে। শাটল ট্রেন হলে এখানে যাতায়াত আরো সুবিধা হবে।’

‘খেলা’ : আরও খবর

সম্প্রতি