টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। সরকারি এই সিদ্ধান্তের পর পাকিস্তান দলের কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় টি-২০ শেষে সেই প্রশ্নের মুখে পড়েন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলী আগা।
এক বিবৃতিতে আইসিসি বলেছে, ‘আইসিসি আশা করে পিসিবি তাদের দেশের ক্রিকেটের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবের কথা বিবেচনা করবে। কারণ এটি বৈশ্বিক ক্রিকেট ইকোসিস্টেমকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যার অন্যতম অংশীদার তারা নিজেরাই।’
তিনি জানিয়েছেন, বয়কটের সিদ্ধান্ত তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তবে সরকার ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) নির্দেশনাই অনুসরণ করবে দল।
ম্যাচের পর সালমান বলেন, ‘আমরা বিশ্বকাপে যাচ্ছি। তবে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত আমাদের নয়। সরকার ও পিসিবি চেয়ারম্যান যা নির্দেশনা দেবেন, আমরা ঠিক সেটাই করবো।’
সরকারি ভাবে বোর্ড কিছু না জানালেও পাক বোর্ডের এক কর্তা সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে জানিয়েছেন, সে ক্ষেত্রেও সরকারের সিদ্ধান্তই মেনে চলবেন তারা। ওই কর্তা বলেন, ‘পাকিস্তান যে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে খেলবে না সেই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের সরকার নিয়েছে। ফলে নক আউট পর্বে যদি ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হয়, সে ক্ষেত্রে কী হবে, সেই সিদ্ধান্তও সরকার নেবে। সরকার যা নির্দেশ দেবে আমরা সেটাই মেনে চলব।’ কিন্তু যদি নক আউটে ভারতের সামনে পড়লে পাকিস্তান না খেলে, তা হলে তাদের ওয়াকওভার দিয়ে সরে যেতে হবে। বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হবে তাদের। ওই কর্তার কথা থেকে পরিস্কার, সরকারের নির্দেশ মেনে যদি প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিতে হয়, তা হলেও তারা সেটাই করবেন।
গতকাল রোববার পাকিস্তান সরকার এক্স মাধ্যমে পোস্ট করে তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। তারা বলেছে, ‘পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে টি-২০ বিশ্বকাপে অংশ নেয়ার অনুমতি দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। কিন্তু ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে না পাকিস্তান।’
এই পরিস্থিতিতে আইসিসি বলেছে, ‘জাতীয় নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের ভূমিকাকে আইসিসি সম্মান করে। কিন্তু পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেটের স্বার্থের পরিপন্থী। গোটা বিশ্বের লাখ লাখ ক্রিকেটপ্রেমী, তাদের মধ্যে পাকিস্তানের সমর্থকেরাও রয়েছেন, তাদের ভালর কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত নয়।’ আইসিসি জানিয়েছে, তারা প্রত্যাশা করে পাকিস্তান সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসি লিখেছে, ‘পিসিবি তাদের দেশের ক্রিকেটের উপর এর সুদূরপ্রসারী এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবের কথা বিবেচনা করবে। কারণ এটি বিশ্ব ক্রিকেটের বাস্তুতন্ত্রকে প্রভাবিত করতে পারে, যার অন্যতম সদস্য এবং সুবিধাভোগী পিসিবি নিজেই।’
নিরপেক্ষ অবস্থানে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক
অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক মিচেল মার্শ। তিনি জানান, তাদের একমাত্র লক্ষ্য টুর্নামেন্টে শিরোপা জয়। মার্শের ভাষ্য, ‘আগের উত্তরের মতোই বলছি, আমরা বিশ্বকাপে যাচ্ছি জয়ের লক্ষ্য নিয়ে। সেটাতেই পুরো মনোযোগ রাখছি। অস্ট্রেলিয়া দল হিসেবে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যারা দায়িত্বে আছেন, তাদের ওপর আস্থা আছে।’