বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার প্রাপ্ত রণজিৎ দাস মারা গেছেন।সোমবার, (০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) ভোরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সিলেটের একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।
দেশ স্বাধীন হওয়ার আগের ফুটবলে তিনি ছিলেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ১৯৫৫ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত তিনি নিয়মিত পূর্ব পাকিস্তান দলের গোলপোস্ট সামলেছেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, চার মেয়ে এবং অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী রেখে গেছেন।
সিলেট থেকে রঞ্জিত দাসের ছেলে রাজীব দাস সংবাদ মাধ্যমকে বাবার মৃত্যুর খবর জানিয়ে বলেন, ‘ বাবা ভোর ৪টার দিকে হার্ট অ্যাটাক করেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর সকালে মারা যান।’
রাজীব আরও জানান, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ৩১ জানুয়ারি তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং পরে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। গতকাল রোববার তিনি কিছুটা সুস্থ’ বোধ করলেও রাতে আবার হার্ট অ্যাটাক করেন। সোমবার সন্ধ্যায় সিলেটের তালিবন্দর শ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
রঞ্জিত দাস ১৯৫৫ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তান ফুটবল দলের হয়ে সুনামের সঙ্গে খেলেছেন। এছাড়া গোলকিপার হিসেবে রঞ্জিত দাস বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে ইস্পাহানি ক্লাব, আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব এবং মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। ফুটবলের পাশাপাশি হকিতেও ছিল সমান দাপট। তবে ফুটবলার পরিচিতিটা তাকে একটু বেশি সুনাম এনে দিয়েছে। পঞ্চাশের দশকে ফুটবল খেলার পর ঢাকায় হকি লীগে খেলেছেন ১৯৬৫-৭০ সাল পর্যন্ত। ফুটবলে আইএফএ শিল্ডে ত্রিপুরা একাদশ ও ঢাকা মোহামেডানের জার্সি পরার অভিজ্ঞতা আছে। কলকাতা মোহামেডানের হয়ে দিল্লিতে খেলেছেন ঐতিহ্যবাহী টুর্নামেন্ট ডুরান্ড কাপে।
১৯৫৮ সালে রঞ্জিত দাসের অধিনায়কত্বে ঢাকা ফুটবল লীগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব। হকিতে অধিনায়ক ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান দলে। ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের পর খেলেছেন সোনালী ব্যাংকে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সিলেট দলের অধিনায়ক ছিলেন। খেলোয়াড়ী জীবন শেষে তিনি পূর্ব পাকিস্তান যুব দল এবং আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবের কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ফুটবলে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রঞ্জিত দাস জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারে ভূষিত হন। বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
দেশ বরেণ্য এই ক্রীড়া ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন গভীর শোকা প্রকাশ করে তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিছে।