আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে না খেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশটির বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের এই সাহসী অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) কঠোর বার্তা দিয়েছেন সাবেক পাকিস্তানি অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি। তিনি মনে করেন, আইসিসি আসলে কতটা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ, তা প্রমাণের মোক্ষম সময় এখনই।
নিজের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে এক বার্তায় আফ্রিদি উল্লেখ করেন, তিনি বরাবরই বিশ্বাস করতেন, রাজনীতি যে অচলাবস্থা তৈরি করে, ক্রিকেট তা দূর করতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের বিপক্ষে না খেলার সরকারি সিদ্ধান্তকে তিনি যৌক্তিক বলে মনে করেন।
‘বুমবুম’ খ্যাত এই তারকা জানান, আইসিসির উচিত শুধু বিবৃতির মাধ্যমে নয়, বরং বলিষ্ঠ পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রমাণ করা যে তারা প্রতিটি সদস্য দেশের প্রতি সমানভাবে সংবেদনশীল এবং নিরপেক্ষ। আইসিসি যে বড় কোনো শক্তির প্রভাবে চলে না, তা দেখানোর এটাই সেরা সুযোগ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, পাকিস্তানের এই কঠোর অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন আরেক সাবেক তারকা রশিদ লতিফও। তার মতে, পাকিস্তান সাধারণত এত কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে অভ্যস্ত নয়। তবে পিসিবি এবার শাস্তির ভয় তোয়াক্কা করছে না।
লতিফ সতর্ক করে বলেন, এই সিদ্ধান্তের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। ২০২৮ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, তাই বর্তমান এই সংঘাতের রেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অন্যদিকে, খেলার মাঠে রাজনীতির এই প্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতীয় কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা শশী থারুর। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলের দল কলকাতা থেকে বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, খেলাধুলাকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া অত্যন্ত লজ্জাজনক। মুস্তাফিজের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে চুক্তিবঞ্চিত করা ঠিক হয়নি উল্লেখ করে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন যে, পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে ভারত-পাকিস্তান মহারণ নিয়ে যখন টানটান উত্তেজনা, তখন পাকিস্তান সরকারের এই কঠোর সিদ্ধান্ত ক্রিকেট বিশ্বে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক: রহস্যময় কুখ্যাত চরিত্র জেফরি এপস্টেইন
অর্থ-বাণিজ্য: স্বর্ণের ভরিতে বাড়ল ৫৪২৪ টাকা