টি-২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তান শেষপর্যন্ত ভারত ম্যাচ বয়কট করলে আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে আইসিসি। তার আগেই অবশ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল তথা আইসিসি তাদের নানাভাবে সতর্কবার্তা দিয়ে রেখেছে। পাশাপাশি ভিন্ন চ্যানেলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে রাজি করানোর চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
টুর্নামেন্টে মূলত ভারতের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের ম্যাচ বয়কটের নির্দেশ আসে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে। তারপর থেকেই তৎপর আইসিসি।
এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জয় শাহ’র নেতৃত্বাধীন আইসিসি এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সংস্থাটির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজাকে দায়িত্ব দিয়েছে।
রেভস্পোর্টজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সঙ্গে ভিন্ন চ্যানেলে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে ম্যাচটি খেলতে রাজি করানোর দায়িত্ব খাজাকে দেয়া হয়েছে। ম্যাচটি আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
ইমরান খাজা আবার সিঙ্গাপুর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের একজন প্রতিনিধি। আইসিসির ভেতরে তাকে একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখা হয়, যিনি সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলতে সক্ষম। এর আগে ২০১৭ সালে আইসিসির অন্তর্বর্তীকালীন চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এসব কারণেই পাকিস্তানকে বোঝানোর দায়িত্ব তার কাঁধে দেয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সুনীল গাভাস্কার
ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কার ইন্ডিয়া টুডেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আগামীতেও যেন এমন সমস্যা না হয়, সেদিকে আইসিসিকে নজর দেয়া উচিত।
‘ভারত ও পাকিস্তানকে একই গ্রুপে রাখার চেষ্টা না করে, ড্র যেভাবে হয়ে থাকে, সেভাবেই আইসিসির এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার হয়তো সময় হয়েছে।’
‘আমি জানি, এটা কেন হয়েছে। ২০০৭ সালে (ওয়ানডে বিশ্বকাপে) ভারত ও পাকিস্তানের কোনো এক পর্যায়ে মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল; কিন্তু তা শেষপর্যন্ত হয়নি কারণ তারা ভিন্ন গ্রুপে ছিল এবং আগেভাগে বিদায় নিয়েছিল। তখন থেকে ভারত ও পাকিস্তানকে একই গ্রুপে রাখার চেষ্টা চলে আসছে।’
পাকিস্তানের কড়া সমালোচনাও করেছেন গাভাস্কার। সাম্প্রতিক সময়ে মুখোমুখি লড়াইগুলোতে যেভাবে একচেটিয়া জয় পেয়েছে ভারত, তাতে তাদের আধিপত্য পরিষ্কার। পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলার জন্য ভারত এখন আর মুখিয়ে থাকে না বলেও মনে করেন গাভাস্কার।
‘(পাকিস্তান না খেললে) ভারতের ক্ষেত্রে যা হবে, তারা দুই পয়েন্ট পাবে। এই বিষয়ে তাদের (ভারত) অতি চেষ্টারও কিছু নেই- এমন নয় যে পাকিস্তানের বিপক্ষে লড়াইয়ের জন্য তারা ঘাম ঝরাবে, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে অনায়াসে তারা পাকিস্তানকে হারিয়েছে। আমাদের কেবল কয়েকটা দিন অপেক্ষা করতে হবে এটা জানার জন্য যে, পাকিস্তান সরকার এই সিদ্ধান্ত আসলে কেন নিয়েছে।’
সারাদেশ: চট্টগ্রাম বন্দরে আজও অচলাবস্থা
অপরাধ ও দুর্নীতি: ১৭ মাসে রাজনৈতিক সংঘাতে নিহত ১৯৫: এইচআরএসএস