আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দলীয় তিনশ রান দেখে গেছে তিনবার। কিন্তু এর কোনোটিই এই সংস্করণের বিশ্বকাপে আসেনি। এবার ২০ ওভারের বৈশ্বিক আসরে প্রথমবারের মতো তিনশ রান দেখা যাবে বলে মনে করছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক ও ভারতের সুরিয়াকুমার যাদব।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড জিম্বাবুয়ের। ২০২৪ সালে গাম্বিয়ার বিপক্ষে ৩৪৪ রান করেছিল তারা। আগের বছর মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে ৩১৪ রান করেছিল নেপাল। আর গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩০৪ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়েছিল ইংল্যান্ড।
স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে মোট পাঁচবার দেখা গেছে তিনশ রানের পুঁজি। যেখানে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি ভারতের ঘরোয়া দল বারোদার, ৩৪৯ রান ।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ দলীয় রান করেছে শ্রীলঙ্কা। ২০০৭ সালে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী আসরে কেনিয়ার বিপক্ষে ২৬০ রান করেছিল তারা।
আর ২০১৬ আসরে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৩০ রান করেছিল ইংল্যান্ড।
ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ-আয়োজনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরের পর্দা উঠছে আজ। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বকাপ ট্রফির সঙ্গে ২০ দলের অধিনায়কের ফটোসেশন। পরে হয় অধিনায়কদের সংবাদ সম্মেলন।
সেখানেই ব্রুক বলেন, যেভাবে ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলছে দলগুলো, তাতে এবার তিনশ রানের সীমানা ছুঁয়ে ফেলার সম্ভাবনা প্রবল।
‘ভারতে এমন অনেক মাঠ আছে যেখানে তিনশর বেশি রান হতে পারে। এই মুহূর্তে উইকেটগুলো দেখে বেশ ভালো মনে হচ্ছে-আউটফিল্ড অনেক দ্রুত এবং বাউন্ডারি তুলনামূলক ছোট।’ ‘তাই, হ্যাঁ, মাঠে ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে হবে, আউট হওয়ার চিন্তা না করে যতটা সম্ভব বলের উপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।’ পরে একই সুরে কথা বলেন স্বাগতিক ও শিরোপাধারীদের অধিনায়ক সুরিয়াকুমারও। মারকাটারি ক্রিকেটের যুগে, যেখানে রানই শেষ কথা, সেখানে বোলারদের জন্য খারাপ লাগার কথাও বলেন তিনি।
‘খেলাটি আসলে অনেক দ্রুত এগোচ্ছে। হ্যাঁ, বোলারদের জন্য সময়টা কঠিন, কিন্তু আমাদের করার মতো কিছু নেই। আমি ব্যাটার হওয়ায় খুশি, তবে আমার নিজেদের বোলার ও অন্য বোলারদের জন্যও খারাপ লাগে।’
‘তবে সবাই ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে, খেলাটা উপভোগ করছে, আরও বেশি সাহসী হয়ে উঠছে-আর এটা অবশ্যই মাঠে আসা দর্শকদের জন্য দারুণ বিনোদন।’
দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক এইডেন মার্করামও মেনে নিচ্ছেন আধুনিক ক্রিকেটকে। তবে তার বোলিং বিভাগও সেই চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত।
‘এটা সহজ কাজ নয়, বিশেষ করে যখন এমন দেশে খেলতে হয় যেখানে উইকেটগুলো সত্যিই ভালো, বাউন্ডারি কিছুটা ছোট এবং ব্যাটসম্যানরা নিজেদের খেলা উপভোগ করে। তাই এটা বোলারদের জন্য দারুণ সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ। আমাদের বোলিং বিভাগ এটাকেই এভাবে দেখছে এবং তারা সেই চ্যালেঞ্জটা নিতে প্রস্তুত।’ ‘সম্ভবত পরিস্থিতি তাদের (বোলারদের) বিপক্ষেই বেশি, কিন্তু তারা চ্যালেঞ্জ নেয়ার দিকেই মনোযোগ দেবে, লড়াইয়ে নামবে এবং শেষ পর্যন্ত কি হয়, সেটাই দেখার বিষয়।’