image
১৮তম ওভারে ফাহিম আশরাফ ২৪ রান নিয়ে দলের জয় সহজ করেন

ফাহিমের বীরত্বে জয় পেল পাকিস্তান

সংবাদ স্পোর্টস ডেস্ক

বাংলাদেশবিহীন টি-২০ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডস ও পাকিস্তান লড়েছে পাল্লা দিয়ে। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের এই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান জয় পেয়েছে ফাহিম আশরাফের বীরত্বে। যে জয়ে অবশ্য অবদান আছে ডাচদের ক্যাচ নেয়ার ব্যর্থতাও।

‘এরকম পরিস্থিতিতে আমরা অভ্যস্ত’

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ফাহিম বলেন, ‘গত এক বছর ধরেই আমরা এই ধরনের ক্রিকেট খেলছি। হৃদস্পন্দন বাড়ছিল-কমছিল, এরকম পরিস্থিতিতে আগেও বহুবার পড়েছি, তাই আমরা এতে অভ্যস্ত।’

‘শাহিনের (আফ্রিদি) সঙ্গে আমার কথা হচ্ছিল উইকেট বাঁচিয়ে খেলার বিষয়ে; আমরা জানতাম, সমীকরণ যাই হোক, এক ওভারেই তা মিলিয়ে নেয়া সম্ভব। আমাদের লক্ষ্য থাকে যত দ্রুত সম্ভব ম্যাচ শেষ করা। তবে এমন মুহূর্তে নিজের স্নায়ু ধরে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

‘পাকিস্তান ম্যাচটা জেতেনি-আমরাই হেরেছি’

ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে ডাচ পেসার পল ফন মিকেরেনের

কণ্ঠে ঝরে আক্ষেপ। ‘আজ যেমন রান চেয়েছিলাম, আমরা হয়তো সেটা তুলতে পারিনি।

কিন্তু ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানের ভালো শুরুর পর আমরা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছি, সেটা আমাদের দলে গড়ে তোলা সংস্কৃতি আর কখনো হাল না ছাড়ার মানসিকতাকেই ফুটিয়ে তোলে।’

‘এটা স্পষ্ট যে, ক্যাচই ম্যাচ জেতায়। আমি খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই, আজ পাকিস্তান ম্যাচটা জেতেনি-আমরাই হেরেছি। আজ আমরা ছিলাম ভালো দল, বিশেষ করে বোলিং বিভাগে এবং আমাদেরই এই ম্যাচে জয় প্রাপ্য ছিল।’

উভয় দলেরই শুরুটা ছিল দারুণ। কিন্তু ফাহিমের শেষের ঝড়টাই গড়ে দিয়েছে ম্যাচের পার্থক্য। ১২.১ ওভারেই দলীয় একশ রান পূর্ণ করেছিলো নেদারল্যান্ডস। ৩ উইকেটে ১০৫ রান তোলার পরই তাদের বিপর্যয় শুরু হলে আর ৪২ রান তুলতেই বাকি ৭ উইকেট হারিয়ে বসে ডাচরা। ফলে ১৯.৫ ওভারেই ১৪৭ রানে অলআউট নেদারল্যান্ডস।

জয়ের জন্য ১৪৮ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তান শতরানে পৌঁছায় ১২.২ ওভারে। তবে ৯৮ থেকে ১০০ রানের ভেতর হারায় ৩ উইকেট। একটা পর্যায়ে ম্যাচে জয়ের পাল্লা হেলে যায় ডাচদের পক্ষেই । এই জায়গা থেকে ১৯.৩ ওভারে তিন উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে উপমহাদেশের ক্রিকেট পরাশক্তি।

শনিবার, (০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) কলম্বোর সিংহলিজ ক্লাব গ্রাউন্ডে টস জিতে নেদারল্যান্ডসকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলে পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আগা। উড়ন্ত সূচনার পর ২৮ রানে ওপেনার ম্যাক্স ও’দাউদকে (৫) হারায় ইউরোপীয় দেশটি। কিছুক্ষণ পরই আউট হন ১৫ বলে ২৪ রান করা অপর ওপেনার মাইকেল লেভিট। বড় জুটি না পেলেও মিডল অর্ডারে ছোট ছোট কার্যক ইনিংস খেলেছেন কোলিন অ্যাকারম্যান (২৫ বলে ৩০), বাস ডি লিড (১৪ বলে ২০) ও স্কট এডওয়ার্ডস (২৯ বলে ৩৭)। অধিনায়ক এডওয়ার্ডসের ইনিংসটা সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস নেদারল্যান্ডসের। এরপর আরিয়ান দত্তের ৮ বলে ১৩ রান ছাড়া আর কেউই দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি। ফলে বড় পুঁজি গড়তে না পারা ডাচরা সর্বসাকুল্যে পায় ১৪৭ রান। শেষ দিকে ডাচদের ব্যাটিং লাইন আপকে চেপে ধরে সালমান মির্জা তিনটি এবং সাইম আইয়ুব দুটো উইকেট শিকার করেন। সমান ২টি করে উইকেটের পতন ঘটান মোহাম্মদ নেওয়াজ ও আবরার আহমেদ।

জয়ের জন্য মামুলি লক্ষ্য তাড়ায় নেমে সাইম আইয়ুব ও সাহিবজাদা ফারহান উভয়েই মারমুখী ছিলেন। যদিও জুটিটা হয় মাত্র ২৭ রানের। ১৩ বলে ৪টি চার ও একটি ছক্কায় ২৪ রানে ফেরেন সাইম। মাঝে অধিনায়ক সালমান ৮ বলে ১২ রান করেই ফেরেন ড্রেসিংরুমে তবে আরেকপ্রান্ত আগলে রেখে ঝড় তোলেন ফারহান। তিনি ৩১ বলে ৪টি চার ও ২ ছক্কায় ৪৭ রানে থামতেই পথ হারায় পাকিস্তান। ওসমান খান (০), শাদাব খান (৮), বাবর আজম (১৫) ও নেওয়াজ (৬) দ্রুত ফিরলে দলটি হারের শঙ্কায় পড়ে। সেই শঙ্কা উড়িয়ে দেয় ফাহিম। তবে তাতে প্রতিপক্ষ ফিল্ডারের পাশাপাশি সহায় ছিল ভাগ্য।

শেষ ৩ ওভারে জয়ের জন্য ২৯ রান দরকার ছিল পাকিস্তানের। প্রথম বলে ছক্কা হাঁকানোর পর লং অনে ক্যাচ দিয়েছিলেন ফাহিম আশরাফ। ও’দাউদ সেই সহজ ক্যাচ তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হলে ওই ওভারে ২৪ রান তুলে ফাহিম জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেন। টানটান উত্তেজনার ম্যাচে জয় পেতে শেষ ওভারের আর তিনটা বল প্রয়োজন পড়ে পাকিস্তানের। ১১ বলে ২টি চার ও ৩ ছক্কায় ২৯ রানে ফাহিম এবং শাহিন আফ্রিদি ৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। ডাচদের পক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন আরিয়ান ও পল ভ্যান মিকেরেন।

দলের বিপর্যয়ের মুখে সাহসের সাথে ১১ বলে ২৯ রানের ইনিংস খেলে ম্যান অব দ্য ম্যাচের প্রাইজমানিটা জিতেছেন ফাহিমই।

শেষ পর্যন্ত ডাচদের দুঃখ হয়ে থাকে ফাহিমের ওই ক্যাচ ফসকে যাওয়া।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: নেদারল্যান্ডস ১৯.৫ ওভারে ১৪৭ (লেভিট ২৪, ডে লেডে ৩০, অ্যাকারম্যান ২০, এডওয়ার্ডস ৩৭, আরিয়ান ১৩ ; আফ্রিদি ১/২৮, সালমান মির্জা ৩/২৪, নাওয়াজ ২/৩৮, আবরার ২/২৩, সাইম ২/৭)।

পাকিস্তান ১৯.৩ ওভারে ১৪৮/৭ (সাহিবজাদা ৪৭, সাইম ২৪, সালমান আগা ১২, বাবর ১৫, ফাহিম ২৯* ; আরিয়ান ২/৩৩, ফন বিক ১/৪৬, ক্লাইন ১/২৩, ফন ডার মারওয়া ১/১৩, ফন মিকেরেন ২/২০)। ম্যাচসেরা: ফাহিম আশরাফ।

সম্প্রতি