কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে টি-২০ বিশ্বকাপের উদ্বেধনী দিনে দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের জায়গায় খেলতে নেমেছিলো স্কটল্যান্ড। প্রায় দর্শকবিহীন গ্যালারির সামনে খেলতে নামা দুই দলের লড়াই ঠিক জমেনি। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজরা শিমরন হেটমায়ারের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে তুলেছিলো ১৮২ রান। জয়ের জন্য ১৮৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নামা স্কটিশরা লড়াইয়ের আভাস দিলেও রোমারিও শেফার্ডেও হ্যাটট্রিকে ৩৫ রানের জয় পেয়েছে ক্যারিবিয়ানরা। বলা যায়, সহজ জয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
জয়ের জন্য ১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩৭ রানেই ৩ উইকেট হারানো স্কটল্যান্ড অধিনায়ক রিচি বেরিংটন আর টম ব্রুসের ব্যাটে ২ উইকেটেই ১১৫ রানে পৌছে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। বেরিংটন ২৪ বলে ৪২ আর ব্রুস ২৮ বলে ৩৫ রানের আউট হলে আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি স্কটল্যান্ড।
স্কটিশদের ব্যাটিং লাইন আপে রোমারিও শেফার্ড একের পর এক আঘাতে তুলে নেন হ্যাট্রিক। ১৭তম ওভারের দ্বিতীয়, তৃতীয় আর চতুর্থ বলে উইকেট শিকার করেন এই পেসার। উইকেট নেন শেষ বলেও। অর্থাৎ হ্যাটট্রিকসহ ওই ওভারেই ৪ উইকেট পান শেফার্ড। সবমিলিয়ে ২০ রানে শিকার করেন পাঁচ উইকেট। তার এমন কৃতিত্বে ১৮.৫ ওভারে ১৪৭ রানেই অলআউট হয় স্কটল্যান্ড
এর আগে টস হেরে স্কটিশদের আমন্ত্রনে ব্যাটিংয়ে নামা ক্যারিয়িানদের শুরুটা ভালো ছিল না কোনোমতেই। পাওয়ার প্লে’তে বিবর্ণ ওয়েস্ট ইন্ডিজরা শেষ পর্যন্ত শিমরন হেটমায়ারের ঝড়ো ইনিংসের সাঙ্গে শেরফান রাদারফোর্ড ও রভম্যান পাওয়েলের কার্যকর ইনিংসে ভর করে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮২ রানের পুঁজি পায়। ইনিংস অবশ্য শুরু হয়েছিলো বাউন্ডারির মারে । কভার দিয়ে ব্রেন্ডন ম্যাকমুলেনের বল বাউন্ডারির বাইরে পাঠান ক্যারিবিয়ান ওপেনার ব্রেন্ডন কিং। তার সঙ্গে ক্রিজে ছিলেন শাই হোপ। পাওয়ার প্লে’র শেষ দুই ওভারে তারা মাত্র ৬ রান তোলেন, যা কোনোমতেই টি-২০ সুলভ বলা যাবেনা। প্রথম ছয় ওভারে বিনা উইকেটে ৩৩ রান তোলা ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ওপেনার পরের ওভার থেকেই চড়াও হন স্কটিশ বোলারদেও ওপর।
সপ্তম ওভারের প্রথম বলে ছক্কা হাঁকানোর, পর টানা দুটি বাউন্ডারি হাঁকান কিং। ওই ওভারেই আসে ১৭ রান। নবম ওভারে হোপকে থামান লিস্ক। ২২ বলে মাত্র দুটো চারের মারে ১৯ রানে থামেন হোপ। ৩০ বলে চার বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় ৩৫ রান তোলা ব্রেন্ডন কিং ফেরেন পরের ওভারেই। এরপর রভম্যান পাওয়েলকে নিয়ে রানের গতি বাড়ান হেটমায়ার। একাদশ, দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ ওভারে তাদের পাঁচটি ছক্কা ও দুটি চারের মারে আসে ৪৯ রান। স্কটিশ বোলারদেও নির্দয়ভাবে পিটিয়ে হেটমায়ার মাত্র ২২ বল মোকাবেলা করে ১৪তম ওভারেই পূর্ন করেন হাফ সেঞ্চুরি। এরপর কিছুটা সময়ের জন্য রান তোলার গতি কম থাকলেও ১৭তম ওভারে তিনটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ১৪ রান তুলে ছন্দ ফেরান হেটমায়ার ও রাদারফোর্ড। উনিশতম ওভারে হেটমায়ার থামার আগে ৩৬ বলে ২ বাউন্ডারি ও ৬টি ছক্কার মারে জমা দেন ৬৪ রান। শেষ ওভারের প্রথম বলে থামেন ২০০ স্ট্রাইক রেটে ১৩ বলে ২৬ রান তোলা রাদারফোর্ড। রোমারিও শেফার্ড বিশতম ওভারের পঞ্চম বলে ছক্কা হাঁকালে ক্যারিবিয়ানরা পায় ১৮২ রানের লড়াকু পুঁজি।