image
ঐতিহাসিক জয়ের পর ইভান্সের নেতৃত্বে মাঠ ছাড়ছেন জিম্বাবুয়ে দল

শিরোপার অন্যতম দাবিদার অস্ট্রেলিয়া ধরাশায়ী

স্কোর: জিম্বাবুয়ে ২০ ওভারে ১৬৯/২; অস্ট্রেলিয়া ১৯.৩ ওভারে ১৪৬/১০। ফল: জিম্বাবুয়ে ২৩ রানে জয়ী

সংবাদ স্পোর্টস ডেস্ক

এবারের টি-২০ বিশ্বকাপে নেপালের বিপক্ষে কোনোমতে পরাজয় এড়িয়েছে ইংল্যান্ড, দুইবার সুপার ওভার খেলে আফগানদের কাছে পরাজয় এড়িয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পরাজয় এড়াতে ব্যর্থ হয়েছে শিরোপার অন্যতম দাবীদার অস্ট্রেলিয়া। বলা যায়, জিম্বাবুয়ের কাছে রীতিমতো ধরাশায়ী হয়েছে অজিরা।

সুপার এইটের আশা মুজারাবানির

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মুজারাবানির কণ্ঠে ঝরে অস্ট্রেলিয়া মতো দলের বিপক্ষে ভালো বোলিং করতে পারার উচ্ছ্বাস।

‘হ্যাঁ, এটা আমার সেরা বোলিং। বিশ্বের সেরা কয়েকজন ব্যাটারদের বিপক্ষে বল করতে পেরেছি, তাই এমন পারফরম্যান্স করতে পেরে ভীষণ ভালো লাগছে। সবচেয়ে ভালো ব্যাপার হলো, বুঝতে পেরেছিলাম বাউন্ডারি আমার পক্ষে ছিল, তাই সেটাকেই কাজে লাগাতে হয়েছে। উইকেটও একটু ধীরগতির ছিল।’ অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে খেলার সুযোগই জিম্বাবুয়ের আসে কদাচিৎ। সেই প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপে কুলীন এই দেশটিকে হারিয়েছিল তারা। পরের প্রায় ১৯ বছরে এই সংস্করণে তাদের তৃতীয় সাক্ষাৎ এটি। আরেকটি জয়ে জিম্বাবুয়ে ফিরিয়ে এনেছেন সেই বিশ্বকাপের স্মৃতি।

মুজারাবানি বলেন, তাদের মনোযোগ এখন পরের ম্যাচে। বিশ্বকাপের সুপার এইটে জায়গা পেতে চায় তারা।

‘অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। তবে পরের ধাপে যেতে পারলে আরও খুশি হবো। তাই পরের ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছি।’

অন্তত ২৩ রানের হার সেই সাক্ষ্যই দিচ্ছে। সিকান্দার রাজার নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ে দলের এই জয়কে কোনোমতেই অঘটন বলার সুযোগ নেই। ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়েই জয় পেয়েছে জিম্বাবুয়ে।

এই জয়ে ‘বি’ গ্রুপে পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে উঠে এসেছে আফ্রিকার দলটি। এই গ্রুপে দুটো করে ম্যাচ জিতে শ্রীলঙ্কার সমান ৪ পয়েন্ট অর্জন করলেও রান রেটে শীর্ষে আছে টুর্নামেন্টের সহ আয়োজক দ্বীপরাষ্ট্রটি। অন্যদিকে ২ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে আছে অস্ট্রেলিয়া। এছাড়া চার নম্বরে আয়ারল্যান্ড ও পাঁচ নম্বরে অবস্থান করছে ওমান।

শুক্রবার, (১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) কলম্বোর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ওভারে ২ উইকেটে ১৬৯ রান তোলে জিম্বাবুয়ে। জয়ের লক্ষ্য ১৭০ রান তাড়া করতে নেমে ১৪৬ রানেই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস। টি-২০’র ধুন্ধুমার ব্যাটিংয়ের যুগে ১৭০ রানের টার্গেট অস্ট্রেলিয়ার জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিলোনা। কিন্তু দুই জিম্বাবুইয়ান বোলার মুজারাবানি ও ইভান্সকে তেমন একটা পাত্তা না দেয়ায় শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। মুজারাবানি ও ইভান্স পাওয়ার প্লে’তেই শিকার করেন চারটি উইকেট। এরপর চাপে পড়া দলের হাল ধরেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও ম্যাট রেনশো। দুজন গিড়েন ৭৭ রানের জুটি। তখন পর্যন্ত জয়ের স্বপ্ন দেখছিলো অজিরা। কিন্তু ম্যাক্সওয়েল ফিরলে আর দলকে জেতাতে পারেননি রেনশো।

হাফ সেঞ্চুরি করা রেনশো দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৫ রান জমা দেন। গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ব্যাট থেকে আসে ৩১ রান। দলনেতা ট্রাভিস হেড করেন ১৭ রান। বাকি ব্যাটারদের কেউই দশের কোটাই স্পর্শ করতে পারেননি। এছাড়া রানের দেখা পাননি তিনজন ব্যাটার।

জিম্বাবুয়ের হয়ে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট শিকার করেন ব্লেসিং মুজারাবানি। তিনটি উইকেট পেয়েছেন ব্র্যাড ইভান্স।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ভালো সূচনা পায় জিম্বাবুয়ে। ওপেনিং জুটিতে আসে ৬১ রান। মাত্র ২১ বলে ৩৫ রান করে আউট হন ওপেনার তাদিয়ানসে মারুমানি।

দ্বিতীয় উইকেট জুটিটা হয় আরও বড়। এবার রায়ান বার্লকে নিয়ে ৭০ রানের জুটি গড়েন ওপেনার ব্যায়ান বেনেট। ৩০ রানে থামে বার্লের ইনিংস। অধিনায়ক সিকান্দার রাজাকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত ব্যাট চালিয়ে বেনেট ৫৬ বলের সাতটি চারের মারে ৬৪ রানে অপরাজিত থাকেন। অধিনায়ক সিকান্দার রাজা অপরাজিত থাকেন ২৫ রানে।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মার্কাস স্টয়নিস ও ক্যামেরন গ্রিন একটি করে উইকেটের পতন ঘটান।

সংক্ষিপ্ত ভার্সনের বিশ্বকাপে এর আগে ২০০৭ সালের বিশ্বকাপেও অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। ফলে বিশ্বকাপের মঞ্চে অজিদের বিপক্ষে দু’বারের মোকাবেলায় শতভাগ সাফল্য আছে জিম্বাবুয়ের।

জিম্বাবুয়ের সামনে এখন সুপার এইটের হাতছানি। আগামী মঙ্গলবার আয়ারল্যান্ড ও এক দিন পর শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: জিম্বাবুয়ে ১৬৯/২ (বেনেট ৬৪, মারুমানি ৩৫, বার্ল ৩৫, রাজা ২৫*; স্টয়নিস ১/১৭, গ্রিন ১/৬)।

অস্ট্রেলিয়া ১৯.৩ ওভারে ১৪৬ (হেড ১৭, ম্যাক্সওয়েল ৩১, রেনশ ৬৫ ; মুজারাবানি ৪/১৭, ইভান্স ৩/২৩-, মাসাকাদজা ১/৩৬, বার্ল ১/৯)।

ম্যাচসেরা: ব্লেসিং মুজারাবানি।

‘খেলা’ : আরও খবর

সম্প্রতি