নারী ফুটবল লীগ
নারী ফুটবল লীগের শিরোপা জিততে রাজশাহীর প্রয়োজন ছিল এক পয়েন্ট। কিন্তু এক নয়, পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করেছে রাজশাহী স্টার্স। শুক্রবার, (১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) কমলাপুর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে সেনাবাহিনী দলকে ৩-০ গোলে হারিয়ে মেয়েদের লীগে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঋতুপর্ণারা। ১০ ম্যাচের ১০টিতেই জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে স্টার্স।
ম্যাচের প্রথমার্ধে ঋতুপর্ণারা ডেডলক ভাঙ্গতে পারেননি। চেষ্টা করেও পারেননি লিড নিতে। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর শুরুর দিকে রাজশাহীর ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়। ৪৭ মিনিটে সৌরভী আকন্দ প্রীতির পাস থেকে রাজশাহীকে এগিয়ে দেন আলপি আক্তার। ৫৮ মিনিটে ঋতুপর্ণা চাকমার ক্রসে দারুণ ভলিতে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন শাহেদা আক্তার রিপা। ৮৭ মিনিটে শাহেদা আক্তার রিপার বাড়ানো ক্রস আলপির মাথা ছুঁয়ে আশ্রয় নেয় ঋতুপর্ণার কাছে। বাঁ পায়ের কোনাকুনি শটে জাল খুঁজে নিতে কোনো ভুল করেননি এই ফরোয়ার্ড। মেয়েদের লীগে এবারই প্রথম অংশ নিয়েছে রাজশাহী। আর ১০ ম্যাচের সবকটিতে জিতে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দলটি।
অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দ নিয়ে দলটির কোচ মাহমুদা শরীফা অদিতি জানান ড্র তাদের ভাবনাতেই ছিলো না।
‘আমাদের পরিকল্পনাই ছিল ‘ম্যাচ বাই ম্যাচ’ আমরা ৩ পয়েন্ট করে নেব। এ ম্যাচেও ড্রয়ের কথা মাথায় আনিনি। জয়ের জন্য, ৩ পয়েন্টের জন্য আমরা মাঠে নেমেছিলাম। ড্র করার কোনো চিন্তাও ছিল না আমাদের।’
রাজশাহী অধিনায়ক শিউলি আজিম বললেন, সেনাবাহিনীর সামর্থ্যের দিকটি ভাবনায় রেখেই খেলতে নেমেছিলেন তারা।
‘ফরাশগঞ্জ এবং সেনাবাহিনী-এই দুইটা টিমই আমার কাছে মনে হয়েছে যে, খুব কঠিন প্রতিপক্ষ ছিলো। ফুটবলটা তো আনপ্রেডিক্টেবল। যে যতই ভালো দলই হোক, আসলে রুখে দেয়া সম্ভব যেকোনো দলের জন?্যই। আমরা ওইটা মাথায় রেখেই মাঠে নেমেছি। আমরা জানি সেনাবাহিনী একটা ভারসাম্যপূর্ণ এবং ভালো দল। আমরা ওইটা মাথায় রেখেই খেলেছি।’
‘এবারের লীগটা অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিলো। কেননা, জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা চারটা-পাঁচটা টিমে ভাগ হয়ে গিয়েছে। তাই প্রতিটা ম্যাচেই কিন্তু অনেক লড়াই হয়েছে। আগের মতো একপাক্ষিক খেলা হয়নি।’
অধিনায়কের সুরে সুর মিলিয়ে ফরোয়ার্ড ঋতুপর্ণা চাকমাও বলেন, ‘অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়া সহজ ছিল না অবশ্যই। বিগত লীগের থেকে এই লীগটা খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়েছে এবং আমাদের এবং ক্লাবেরও লক্ষ্য ছিল শিরোপা জয়ের। সেটা আমরা পূরণ করতে পেরেছি। আমরা খুশি।’
লীগের প্রাপ্তির আনন্দ উদযাপনের জন্য অবশ্য খুব বেশি সময় পাচ্ছেন না ঋতুপর্ণারা। মার্চের উইমেন’স এশিয়ান কাপের প্রস্তুতিতে নেমে পড়তে হবে তাদের; যেটি পিটার জেমন বাটলারের অধীনে ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। রাজশাহী স্টার্সের ডিফেন্ডারও জাতীয় দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার বলেন, ‘(লীগ হওয়ায়) সুবিধা অনেক হয়েছে। কারণ যেহেতু এশিয়া কাপের খেলা আছে, আমরা খেলার ভিতরে থাকতে পারি, গেম টাইম পাই, তাহলে ম্যাচগুলো থেকে আমাদের ভুলগুলো শিখতে পারব এখানে যে ভুলগুলো আমাদের হয়েছে, সেগুলো শুধরে নিয়ে এশিয়া কাপের জন্য আমরা তৈরি হতে পারবো।’
‘চীন, কোরিয়া ওরা তো খুবই ভালো দল, এশিয়ার মধ্যে সেরা দল। ওদের সঙ্গে খেলতে পারবো, ওদের সঙ্গে খেলে আমরা অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবো। ওদের পর্যায়ে যেতে গেলে আমাদেরকে আরও কত পরিশ্রম করতে হবে, কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এগুলা আমরা শিখতে পারবো। অবশ্যই চেষ্টা করবো ওখানে ওদের সাঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আর উপরওয়ালা তো আছেই।’