স্কোর: নেপাল ২০ ওভারে ১৩৩/৮; ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৫.২ ওভারে ১৩৪/১। ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৯ উইকেটে জয়ী।
গতকাল শনিবার নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপের সুপার এইটে এক পা দিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। রোববার, (১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে নেপালের বিপক্ষে প্রত্যাশিত জয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানরা প্রথম দল হিসেবে সুপার এইট নিশ্চিত করেছে। নেপালকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে ২৮ বল হাতে রেখে ও ৯ উইকেটে জিতেছে তারা।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে জেসন হোল্ডারের দুর্দান্ত বোলিংয়ের মুখে ৮ উইকেটে ১৩৩ রানে থেমে যায় হিমালয় দুহিতা নেপাল। ক্যারিবিয়ান পেসার হোল্ডার ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে চার উইকেট শিকারের মধ্য দিয়ে জিতেছেন ম্যাচসেরার পুরস্কার।
ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ৪৬ রানে পাঁচ উইকেট হারানো নেপালের স্কোর একশ’ পার হবে কিনা, সেটা নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছিল। দীপেন্দ্র সিং আইরি ৪৭ বলে তিনটি করে চার ও ছয়ের মারে ৫৮ রানে অপরাজিত থেকে দলীয় স্কোর তিন অঙ্কের ঘরে নিয়ে যান। তার সঙ্গে সোমপাল কামি ২৬ বলে সর্বোচ্চ ৫৪ রানের জুটি গড়েন। সোমপাল ১৫ বলে ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন।
জয়ের জন্য ১৩৪ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নামা ক্যারিবিয়ানরা পাওয়ার প্লে’র শেষ ওভারে ব্র্যান্ডন কিংকে (২২) হারায়। পরের সময়টাতে নেপালি বোলারদের কোনো সুযোগ না দিয়ে শাই হোপ ও শিমরন হেটমায়ারের ৫৯ বলে ৯১ রানের অপরাজিত জুটিতে ১৫.২ ওভারে জিতে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৪৪ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৬১ রানে অপরাজিত ছিলেন হোপ। হেটমায়ার অপরাজিত থাকেন ৪৬ রানে।
এই জয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষস্থান মজবুত করার পাশাপাশি ৬ পয়েন্ট নিয়ে পরের ধাপে খেলা নিশ্চিত করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইংল্যান্ডের তিন ম্যাচে ৪ পয়েন্ট। স্কটল্যান্ডের তিন ম্যাচে ২ এবং ইতালির দু’ম্যাচে ২ পয়েন্ট। নেপালের তিন ম্যাচে শূন্য। এর আগে নেপাল ১২৩ রান তুলে ইতালির কাছে ১০ উইকেটে এবং ১৮০/৬ রান তুলে ইংল্যান্ডের কাছে ৪ রানে পরাজিত হয়। ওমানের পর টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় দল হিসেবে বিদায় নিয়েছে নেপাল।
সুপার এইটে পৌঁছে যাওয়া ক্যারিবিয়ানরা গ্রুপের শেষ ম্যাচে ইতালির বিপক্ষে খেলবে আগামী বৃহস্পতিবার। নেপালের শেষ ম্যাচ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আগামীকাল।
এক ম্যাচে দুই কীর্তি
হোল্ডারের
নেপালের বিপক্ষে চমৎকার বোলিংয়ে দারুণ দুটি কীর্তি গড়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অভিজ্ঞ পেস বোলিং অলরাউন্ডার।
চার ওভার বোলিং করে ২৭ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন হোল্ডার। টি-২০ বিশ্বকাপে এই প্রথম ম্যাচে চার উইকেট নিলেন তিনি। দুইবার করে পেয়েছিলেন তিনটি করে উইকেট।
বল হাতে আলো ছড়িয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নেন হোল্ডার। এটাও তাকে দেয় আরেকটি প্রথমের স্বাদ। টি-২০ বিশ্বকাপে আগের আট ম্যাচে একবারও ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ হননি তিনি।
রোববার ইনিংসের পঞ্চম ওভারে আক্রমণে এসেই আসিফ শেখকে বিদায় করেন হোল্ডার। ফাইন লেগে ধরা পড়েন নেপাল ওপেনার। নিজের পরের ওভারে আসিফের বড় ভাই আরিফ শেখকেও ফেরান হোল্ডার।
প্রথম দুই ওভারে স্রেফ ৪ রান দেন দেয়া পেসারকে ১৮তম ওভারে বোলিংয়ে আনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এবার টানা তিনটি চার হজম করেন হোল্ডার।
ইনিংসের শেষ ওভারের দ্বিতীয় ও শেষ বলে দুই উইকেট নেন ওভারে স্রেফ সাত রান খরচ করে। হোল্ডারের বোলিং ৪-০-২৭-৪। এই সুবাদে ম্যাচসেরা হন তিনি।