এশিয়া কাপে খেলতে অস্ট্রেলিয়া গেলো নারী ফুটবল দল
প্রথমবারের মতো এএফসি এশিয়ান কাপে খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় রওয়ানা হয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। ভালো খেলার প্রত্যয় নিয়ে শিষ্যদের নিয়ে রওয়ানা হয়েছেন কোচ পিটার বাটলার। তবে যাওয়ার আগে প্রস্তুতির অসন্তুষ্টির কথাই জানিয়েছেন এই কোচ। মালয়েশিয়ায় প্রস্তুতি নেয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। ফিলিপাইনের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা ছিল, সেটাও হয়নি। শেষপর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার যাওয়ার পথে থাইল্যান্ডে একটি ম্যাচ খেলার কথা থাকলেও তা বাতিল হয়েছে। এসব নিয়েই বিরক্ত কোচ বাটলার। তাই বৃহস্পতিবার,(১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) ফুটবল ফেডারেশনে (বাফুফে) অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে কোচের কথা, ‘আমি কারও হাতের পুতুল নই। আমাদের প্রস্তুতি নিয়ে অনেক ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে। বাস্তবতা হলো প্রস্তুতি আদর্শ মানের হয়নি। আমাদের একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু সেটি কার্যকর করা যায়নি।’
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্য বা জাপানে ক্যাম্প করার পরিকল্পনা থাকলেও লীগের ম্যাচ থাকায় তা সম্ভব হয়নি।’ ১০ ও ১৩ ফেব্রুয়ারি লীগ ম্যাচ খেলে ১৯ ফেব্রুয়ারি শক্তিশালী ফিলিপাইনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলা বাস্তবসম্মত ছিল না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সূচি জটিলতার কারণেই থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ বাতিল হয়েছে বলে জানান বাটলার। ফুটবল ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পিটার বলেন, কখনো কখনো জয় দিয়ে ভেতরের সমস্যা আড়াল করা হয়। ফুটবল মানে শুধু প্রথম ১০ মিনিটে দুই গোল করা নয়। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া।’ বাটলার আরও জানান, তিনি লাইবেরিয়া, বতসোয়ানা, ইংল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার মতো দল পরিচালনা করেছেন। ক্ষোভের সঙ্গে তিনি বলেন, ‘সব দোষ বাটলারের-এ কথা বলা বন্ধ করা উচিত। আমি সততার সঙ্গে কাজ করি।’ এশিয়ান কাপে বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বে চীন, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তানের মতো শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হবে। এই বাস্তবতায় সমর্থকদের প্রত্যাশা নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানান বাটলার। তার মতে, প্রতিযোগিতায় সম্মানজনক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পারফরম্যান্স করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
বেশকিছু দিন ধরেই দলের সঙ্গে রয়েছেন সুইডেন প্রবাসী নারী ফুটবলার আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী। সংবাদ সম্মেলনে এসে সেই শিষ্যকে প্রশংসায় ভাসালেন পিটার। তার কথা, ‘শুধুমাত্র স্থানীয় বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের নিয়ে দল গড়ার প্রথা থেকে আমাদের বের করে আনবেন। কারণ আমি নিশ্চিত যে অস্ট্রেলিয়াতে অনেক অনেক বাংলাদেশি খেলোয়াড় খেলছেন; এমনকি অ্যাস্টন ভিলাতেও একজন মেয়ে খেলছেন বলে আমি জানি। আসল বিষয়টি হলো এমন একজনকে প্রয়োজন যে কিনা সাহসের সঙ্গে এগিয়ে আসবে এবং একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। তিনি (আনিকা) ঠিক সেটিই করছেন।’
আনিকা সুইডেনের ক্লাব ব্রোমপোজকার্নার অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলেছেন। এ মাসেই সুইডিশ কাপে ক্লাবটির সিনিয়র দলের হয়েও অভিষেক হয়েছে তার। অনুশীলনে আনিকাকে দেখে মনে ধরেছে বাংলাদেশ কোচের। তার কথা, ‘আমার মনে হয় তার (আনিকা) বয়স ২০-২১ বছর। আমি তাকে (খেলোয়াড় হিসেবে) পরখ করে দেখতে বেশ আগ্রহী ছিলাম। আমি এ বিষয়ে যথেষ্ট গবেষণা করেছি, তার কোচদের সঙ্গে কথা বলেছি, ভিডিও দেখেছি এবং অনুশীলনে তাকে পর্যবেক্ষণ করেছি। আমার চোখে সে সত্যিই দারুণ সম্ভাবনাময় একজন খেলোয়াড়; সেইসঙ্গে একটি চমৎকার আবিষ্কার সে।’ তিনি যোগ করেন, ‘এখন আপনি যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন কেন আমি তাকে বেছে নিলাম? আমি তার দক্ষতা বা সক্ষমতার ভিত্তিতে তাকে নির্বাচন করেছি। তার বয়স এখানে একটি বড় ইতিবাচক দিক; সে ভবিষ্যতের জন্য একজন যোগ্য খেলোয়াড়। মনে করি তার মানসিকতা বেশ সতেজ এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সে খুবই লড়াকু মনোভাবের। সে দলের মান এবং শক্তি যোগ করবেন এবং দিনে দিনে সে আরও উন্নতি করবে।’ এদিকে বাফুফের এক ভিডিও বার্তায় আনিকা বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমার একটা লক্ষ্য ছিল। যেভাবেই হোক বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই আমি। এখানে এসে আমার ভালো লাগছে।’
বাংলাদেশ দল
গোলকিপার: রুপনা চাকমা, মিলি আক্তার, স্বর্ণা রানী।
রক্ষণ: আফঈদা খন্দকার, কোহাতি কিসকু, নবীরন খাতুন, শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার সিনিয়র, হালিমা খাতুন, সৌরভী আফরিন।
মধ্যমাঠ: স্বপ্না রানী, মুনকি আক্তার, আইরিন খাতুন, শাহেদা আক্তার, উমেহলা মারমা, ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা, মারিয়া মান্দা, আনিকা রানিয়া, উন্নতি খাতুন।
আক্রমণ: আলপি আক্তার, সুরভী আকন্দ, মোসাম্মত সুলতানা, তহুরা খাতুন, মোসাম্মত সাগরিকা ও শামসুন্নাহার জুনিয়র।