image
সিকান্দার রাজার ঝড়ো ব্যাটিং

লঙ্কানদের হারিয়ে অপরাজিত থেকে সুপার এইটে জিম্বাবুয়ে

ক্রীড়া বার্তা পরিবেশক

স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রান তাড়ার রেকর্ড গড়ে টি-২০ বিশ্বকাপে আরেকটি জয়ে অপরাজিত থেকে সুপার এইটে জিম্বাবুয়ে।

বৃহস্পতিবার,(১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) কলম্বোয় গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে ৬ উইকেটে জিতেছে জিম্বাবুয়ে। শ্রীলঙ্কার ১৭৮ রান তিন বল বাকি থাকতে পেরিয়ে গেছে তারা। শেষ ওভারে আট রানের চ্যালেঞ্জে প্রথম বলেই ছক্কা মেরে লঙ্কানদের সেই বাতি নিভিয়ে দেন টনি মুনিয়োঙ্গা। টি-২০ বিশ্বকাপে এই প্রথম দেড়শর বেশি রান তাড়া করে জিতলো জিম্বাবুয়ে।

বাছাই পেরুতে না পারায় ২০২৪ সালের টি-২০ বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। সেই দলকেই এবার দেখা যাচ্ছে ভিন্ন রূপে। বাছাই পর্বে অপরাজিত থাকা সিকান্দার রাজার দল মূল পর্বেও এখন পর্যন্ত হারেনি কোনো ম্যাচ।

জম্বাবুয়ের এদিনের জয়ের নায়ক অধিনায়ক রাজা চারে নেমে যিনি চারটি ছক্কা ও দুই চারে ২৬ বলে ৪৫ রান করেন। অবদান কম নয় ব্রায়ান বেনেটের। দলের জয় সঙ্গে নিয়ে ফেরা ওপেনার আট চারে করেন ৬৩ রান। এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত অপরাজিত তিনি; অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্মরণীয় জয়ে ৬৪ রান ও ওমানের বিপক্ষে ৪৮ রান করেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

ম্যাচের প্রথমভাগে আলো ছড়ানো পাথুম নিসাঙ্কা করেন আট চারে ৬২ রান। লঙ্কান ওপেনার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেছিলেন ঠিক ১০০ রানের অপরাজিত ইনিংস। নিসাঙ্কা ও কুসাল পেরেরার ব্যাটে ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ভালো ছিলো, টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে শ্রীলঙ্কার। চার ওভারেই ৪৬ রান তুলে ফেলেন তারা। পঞ্চম ওভারে পেরেরাকে বিদায় করে ৫৪ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন ব্লেসিং মুজারাবানি।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা নিসাঙ্কা ফিফটি করেন ৩৪ বলে। দ্বাদশ ওভারে একশ স্পর্শ করে শ্রীলঙ্কার রান। পরের দুই ওভারে কুসাল মেন্ডিস ও নিসাঙ্কাকে হারায় তারা। এরপর লঙ্কানদের রানের চাকা সচল রাখেন পাভান রাতœায়েকে। সিকান্দার রাজাকে ছক্কায় ওড়ানো ব্যাটসম্যান ব্র্যাড ইভান্সকে টানা তিন বলে মারেন দুটি চার ও একটি ছক্কা। ওই ওভারেই পাভান ও দুশান হেমান্থাকে ফিরিয়ে দেন ইভান্স। শেষ ওভারে মুজারাবানিকে তিনটি চার মারেন দুনিথ ওয়েলালাগে। তাতে শ্রীলঙ্কার রান ১৮০ এর কাছে যায়। রান তাড়ায় মারুমানি ও বেনেটের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট হারায়নি জিম্বাবুয়ে। প্রথম ছয় ওভারে দলকে ৫৫ রান এনে দেন তারা।

মারুমানি ও বেনেটের ব্যাটে সমান গতিতে আসতে থাকে রান। নবম ওভারে ওয়েলালাগেকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এক ছক্কা ও পাঁচটি চারে ৩৪ রান করা মারুমানি। ভাঙে ৬৯ রানের শুরুর জুটি। ক্রিজে গিয়ে মুখোমুখি পঞ্চম ও ষষ্ঠ বলে চার ও ছক্কা হাঁকান রায়ান বার্ল। দারুণ শানাকে বাউন্ডারি মারার পরের বলে শর্ট ফাইন লেগে ধরা পড়েন তিনি। এরপর শুরু হয় বেনেটকে নিয়ে রাজার রান তাড়া। পঞ্চদশ ওভারে লেগ স্পিনার দুশান হেমান্থাকে টানা দুটি ছক্কায় ওড়ানোর পর চার মারেন রাজা। পরের ওভারে থিকশানাকে ছক্কা ও চার মারেন তিনি।

রাজার ঝড়ে শেষ ছয় ওভারে ৬৫ রান থেকে জিম্বাবুয়ের সামনে শেষ দুই ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায় ১৩ রান। ১৯তম ওভারে দুর্দান্ত দুটি ক্যাচে রাজা ও মুসেকিওয়াকে ফিরিয়ে ম্যাচ জমিয়ে দেন শানাকা। কিন্তু শেষ ওভারে সহজেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় জিম্বাবুয়ে।

‘খেলা’ : আরও খবর

সম্প্রতি