টি-২০ বিশ্বকাপ
ওপেনার শাই হোপের ও পেসার শামার জোসেফের নৈপুন্যে জয় দিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ করলো দু’বারের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
বৃহস্পতিবার,(১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) ‘সি’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪২ রানে হারিয়েছে ইতালিকে। ৪ ম্যাচের সবগুলো জিতে পূর্ণ ৮ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সুপার এইটে খেলবে ক্যারিবীয়রা।
প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে নেমে হার দিয়ে আসর শেষ করলো ইতালি। ৪ ম্যাচে ১ জয় ও ৩ হারে ২ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে চতুর্থ হয়েছে ইতালি। তাদের একমাত্র জয় নেপালের বিপক্ষে, ১০ উইকেটে।
বৃহস্পতিবার কলকাতায় ক্যারিবিয়ানরা ২০ ওভারে তোলে ১৬৫ রান। অধিনায়ক শাই হোপের ব্যাট থেকে আসে ৪৬ বলে ৭৫ রান।
ম্যাচের মাঝবিরতিতে মাঠ ছাড়ার সময় বেশ উৎফুল্ল আর উজ্জীবিত মনে হচ্ছিলো ইতালিয়ানদের। বেশ আঁটসাঁট বোলিং আর দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে প্রতিপক্ষকে মাঝারি স্কোরে আটকে রাখার পরে উচ্ছ্বসিত হওয়াই স্বাভাবিক। তবে বিশ্বকাপ অভিষেকে নজরকাড়া ইউরোপের দলটি মুখ থুবড়ে পড়লো ব্যাটিংয়ে। গুটিয়ে যায় তারা ১২৩ রানেই।
আগের ৩ ম্যাচ মিলিয়ে ৩টি উইকেট নেয়া জোসেফ এবার এক ম্যাচেই শিকার করেন ৪ উইকেট। আরেক পেসার ম্যাথু ফোর্ড ব্যাট হাতে ক্যামিও ইনিংস খেলার পরে বল হাতে নেন ৩ উইকেট।
টসের সময় শাই হোপ বলেছিলেন, ‘প্রক্রিয়া ধরে রাখতে হবে।’ সেটির প্রমাণ দিতেই যেন আগের একাদশই ধরে রাখে তারা। আগেই সুপার এইট নিশ্চিত হলেও পরীক্ষা-নিরীক্ষার কোনো পথ বেছে নেয়া হয়নি।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে অবশ্য কিছুটা পরীক্ষায় পড়ে যায় তারা। দ্বিতীয় ওভারেই বাঁহাতি পেসার আলি হাসানের দারুণ ডেলিভারিতে বিদায় নেন ব্র্যান্ডন কিং। একাদশে ফেরা টমাস ড্রাকা একটু পরে ফিরিয়ে দেন শিমরন হেটমায়ারকে।
রান আসছিলো তখন কেবল হোপের ব্যাটেই। পাওয়ার প্লেতে দলের ৪৮ রানের ৩৯ আসে তার ব্যাট থেকেই।
তৃতীয় উইকেটে ৫০ বলে ৬৪ রানের জুটি গড়েন তিনি রস্টন চেইসের সঙ্গে। তবে চেইস একদমই ছন্দ পাননি। আউটও হয়ে যান ২৫ বলে ২৪ রান করে। রভম্যান পাওয়েল আউট হয়ে যান একটি ছক্কার পরই।
পুরো সময়টা আরেক প্রান্ত থেকে দলকে এগিয়ে নেন হোপ। ১৫ ওভারে দলের রান যখন ১১৫, অধিনায়কের অবদান তাতে ৭৫। লেগ স্পিনার কৃষান কালুগামাগের বলে স্লগ সুইপের চেষ্টায় শেষ হয় হোপের পথচলা। ৩০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে জেসন হোল্ডার থেমে যান একটি ছক্কা মেরেই। শেষ দিকে কিছুটা রান বাড়ান শেরফেন রাদারফোর্ড (১৫ বলে ২৪*) ও ম্যাথু ফোর্ড (৮ বলে ১৬*)। শেষ ৫ ওভারে ৫০ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
সেই স্কোর নিয়ে তাদের শঙ্কার কারণ ছিলো যথেষ্টই। আগের ম্যাচে এই মাঠেই ইংল্যান্ডকে কাঁপিয়ে দিয়ে ১৭৮ রান তুলেছিল ইতালি, মুম্বাইয়ে নেপালের ১২৩ রান টপকে গিয়েছিল তারা ত্রয়োদশ ওভারেই কোনো উইকেট না হারিয়ে। তবে শেষ ম্যাচটিতে সেই বারুদ দেখা গেলো না তাদের ব্যাটে।
অ্যান্থনি মোস্কা শুরুটা ভালো করলেও আউট হয়ে যান ১২ বলে ১৯ রান করে। তার ছোট ভাই জাস্টিন মোস্কা ও তিনে নামা সৈয়দ নাকভি ফেরেন দ্রুতই।
ভালো করতে পারেননি অধিনায়ক হ্যারি ম্যানেন্টিও। জেজে স্মাটসের লড়াই শেষ হয় ২৭ বলে ২৪ করে। বোলিংয়ে ২ উইকেট নেয়া বেন ম্যানেন্টি পরের দিকে আরেকটু লড়াই করে ২১ বলে করেন ২৬। ৮ রানের মধ্যে শেষ ৪ উইকেট হারিয়ে তাদের ইনিংস শেষ হয় ২ ওভার আগেই।
শেষ উইকেটটি নিয়ে ৪ উইকেট পূর্ণ করেন জোসেফ। আন্তর্জাতিক টি-২০তে এক ম্যাচে ৪ উইকেট ও ৪ ক্যাচ নেই আর কারও।
সুপার এইটে গ্রুপ-১’এ জিম্বাবুয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের বিপক্ষে খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২৩ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে সুপার এইটে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে ক্যারিবীয়রা।