image
রাধা ও তেজালের জুটিই ম্যাচে গড়ে দেয় পার্থক্য

ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ

স্কোর ভারত ২০ ওভারে ১৩৪/৭; বাংলাদেশ ১৯.১ ওভারে ৮৮/১০। ফল: ভারত এ’ দল ৪৬ রানে জয়ী

ক্রীড়া বার্তা পরিবেশক

রাইজিং স্টার্স নারী এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ ‘এ’ দলকে ৪৬ রানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জিতে নিল ভারতীয় ‘এ’ দল।

রোববার, (২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) ব্যাংককে টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে ২০ ওভারে ভারত তোলে ১৩৪ রান।

সেই রান তাড়ায় বাংলাদেশ পারেনি লড়াই জামেই। গুটিয়ে যায় তারা ৮৮ রানেই। মন্থর উইকেটে ৩৪ বলে ৫১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ফাইনালের নায়ক তেজাল হাসাবনিস। বিপর্যয়ের মধ্যে ৬৯ রানের জুটি গড়েন তিনি রাধার সঙ্গে। এই জুটিই মূলত গড়ে দেয় ম্যাচের ভাগ্য। জাতীয় দলে রাধার পরিচয় শুধুই বাঁহাতি স্পিনার। আন্তর্জাতিক টি-২০তে তার ব্যাটিং গড় মাত্র ৫.৪৭। সেই তিনিই ফাইনালে উপহার দেন ৩০ বলে ৩৬ রানের মহামূল্য ইনিংস।

পরে ভারতীয় স্পিনারদের দারুণ বোলিংয়ের সামনে বাংলাদেশ পারেনি ডানা মেলতে। গত আসরের ফাইনালে ভারতের ১২৭ রান তাড়ায় প্রায় জাতীয় দল নিয়েও বাংলাদেশ হেরেছিল ৩১ রানে। এবারের ব্যবধান আরেকটু বেশি।

ম্যাচের শুরুর লড়াইটা ছিল কৌতূহল জাগানিয়া। এই টুর্নামেন্টে পাওয়ার প্লেতে সবচেয়ে দ্রুত রান তোলা দল ভারত। পাওয়ার প্লেতে সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলিং করা দল বাংলাদেশ। সেই লড়াই জমে ওঠে বেশ। প্রথম ২ ওভারে ভারতের রান ছিল মাত্র ৪। তৃতীয় ওভারে ফারিহা তৃষ্ণাকে তিনটি বাউন্ডারি মারেন দিনেশ বৃন্দা। ষষ্ঠ ওভারে আক্রমণে এসে প্রথম বলেই বৃন্দাকে ফেরান বাঁহাতি স্পিনার ফাতেমা জাহান। আগের ম্যাচগুলোয় ১৯০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করা ব্যাটার ফাইনালে ফেরেন ১৭ বলে ১৯ রান করে। পাওয়ার প্লেতে ভারত তোলে ১ উইকেটে ৩২ রান, এই টুর্নামেন্টে যা তাদের সর্বনিম্ন।

পাওয়ার প্লে শেষে বাংলাদেশ আরও চেপে ধরে ভারতকে। রান আউট হয়ে যান ওপেনার নান্দিনি কাশ্যাপ (১৫ বলে ৮)। নতুন ব্যাটার মিন্নু মানি প্রথম বলেই পয়েন্টে ক্যাচ দেন পেসার ফারজানা ইয়াসমিনের বাড়তি লাফানো বলে।

অধিনায়ক ফাহিমা আক্রমণে এসে প্রথম ডেলিভারিতেই পেয়ে যান সাফল্য। ফ্লাইটেড ডেলিভারিতে ভুল লাইনে খেলে বোল্ড হন আনুশকা শার্মা (১২ বলে ৮)। নবম ওভারে ৪৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে তখন কাঁপছে ভারত। সেখান থেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়া জুটি। আগের ম্যাচগুলোয় ভালো করতে না পারা তেজাল ক্রমে থিতু হয়ে যান। ৯ রানে জীবন পেয়ে রাধা সঙ্গ দেন তাকে। শুরুতে একটু সময় নেন দুজনই। ১৪ ওভারের পর দুজনই বাড়ান রানের গতি। ফারজানার পেসে দারুণ শটে টানা দুটি ছক্কা মারেন তেজাল। রাধা ছক্কায় উড়িয়ে দেন লতা মন্ডলকে। এই জুটি থামে সপ্তদশ ওভারে। ফাহিমাকে একটি বাউন্ডারির পরে আবার বড় শটের চেষ্টায় আউট হন রাধা। সীমানায় দারুণ ক্যাচ নেন ফারজানা। ওই ওভারেই সীমানায় লতার চমৎকার ক্যাচে থেমে যান তানুজা কাঁওয়ার।

শেষ ওভারে বাউন্ডারি মেরে ফিফটির দিকে এগিয়ে যান তেজাল। ৩৩ বলে ফিফটি ছুঁয়ে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন তিনি। শেষ ৬ ওভারে ৫৪ রান তোলে ভারত।

১৩৫ রান তাড়া করতে জরুরি ছিল পাওয়ার প্লেতে দ্রুত রান। কিন্তু তৃতীয় ওভারে প্রথম ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে শট খেলে আউট হন ইশমা তানজিম (৩)।

অভিজ্ঞ শামীমা সুলতানার ব্যাটে ছিল ভালো কিছুর আভাস। তার সঙ্গে শুরুটা ভালো করেন শারমিন সুলতানাও। কিন্তু পাওয়ার প্লেতে ৩৬ রান তোলার বাংলাদেশ এরপর ক্রমে পিছু হটতে থাকে।

পাওয়ার প্লে শেষেই লেগ স্পিনার প্রেমা রাওয়াত আক্রমণে এসে কাজ কঠিন করে তোলেন বাংলাদেশের ব্যাটারদের কাজ। শামীমা ফেরেন ১৫ বলে ২০ রান করে। ৯ রানে জীবন পাওয়া শারমিন শেষ পর্যন্ত করতে পারেন ৩০ বলে ১৮ রান। শূন্য রানে জীবন পেয়ে সাদিয়া আক্তার ফেরেন ১৫ বলে ১০ রান করে। সাদিয়াকে ফেরানোর আগে লতাকেও (১) ফিরিয়ে দেন প্রেমা।

ফাহিমা ও ফারজানার সামনে তখন প্রভারপ্রতি দশের বেশি রান করার চ্যালেঞ্জ। তারা পারেননি সেই দাবি মেটাতে। ৩ রানে জীবন পেয়ে ফাহিমা পরে ছক্কার চেষ্টায় আউট হন ১১ বলে ১৪ রান করে। থাইল্যান্ডের সঙ্গে তিন ছক্কায় ম্যাচ জেতানো ফারজানা এবার থেমে যান ১০ বলে ৬ রান করে।

পরে শরিফা খাতুন একটি ছক্কা মারলেও আর বেশি কিছু করার সুযোগ ছিল না। শেষ ওভারেই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস।

গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচের সবগুলোতে জিতে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বে শ্রীলয়মলা, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়াকে হারায় তারা। সেমিপশ পাকিস্তানকে ৫৪ রানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ।

অন্যদিকে আরব আমিরাতের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল ভারতীয় দল। পরে ঘুরে দাঁড়িয়ে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাকে হারানোর পরে ফাইনালেও শেষ হাসি তাদেরই।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: ভারত ‘এ’ ২০ ওভারে ১৩৪/৭ (বৃন্দা ১৯, তেজাল ৫১*, রাধা ৩৬ ; ফারজানা ১/৩০, ফাতেমা ১/১৯, ফাহিমা ৪-০-২৫-৪)।

বাংলাদেশ ‘এ’: ১৯.১ ওভারে ৮৮ (ইশমা ৩, শামীমা ২০, শারমিন ১৮, সাদিয়া ১০, লতা ১, ফাহিমা ১৪, ফারজানা ৬, শরিফা ৯*, মেঘলা ৫, ফাতেমা ১; সাইমা ১/১১, সোনিয়া ২/২১, তানুজা ২/১১, মিন্নু ১/১৭, প্রেমা ৪-০-১২-৩, রাধা ১/১৬)। প্লেয়ার অব দ্য ফাইনাল: তেজাল হাসাবনিস।

‘খেলা’ : আরও খবর

সম্প্রতি