আন্তর্জাতিক টি-২০তে প্রায় ১১ বছর হয়ে গেলেও দলে থিতু হতে পারছিলেন না সঞ্জু স্যামসন। তারকায় ঠাসা ভারতীয় দলে তার বেশিরভাগ সময় কেটেছে ডাগআউটে বসে। সেখানে বসেই শিখেছেন কীভাবে বড় মঞ্চে ও বড় ম্যাচে রান তাড়া করতে হয়।
ছন্দ হারানোয় এবার বিশ্বকাপেও প্রথম একাদশের বাইরে ছিলেন সঞ্জু। রিঙ্কু সিংয়ের পারিবারিক সমস্যায় তাকে সুযোগ করে দেয়। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ছন্দে ফেরার আভাস দিয়েও ছোট ইনিংসে থামতে হয়েছিল। তবে সবটা যেন জমিয়ে রেখেছিলেন অলিখিত কোয়ার্টার ফাইনালের জন্য।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৯৬ রানের লক্ষ্যে ৫০ বলে চোখ ধাঁধানো ৯৭ রানের এক ইনিংস খেলেছেন তিনি। গত রোববার রাতে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে সঞ্জুর ব্যাটের দাপট ছিল পুরো ২০ ওভার জুড়ে। এক পাশে উইকেট পড়লেও তিনি ছিলেন অবিচল। তার ব্যাটে কোনো অস্থিরতা দেখা যায়নি, বরং প্রায় ২০০ স্ট্রাইকরেটে রান তুলে গেছেন অবলীলায়।
নান্দনিক সব ক্রিকেটীয় শটের পসরায় গ্যালারি মাত করেছেন তিনি। কখনো গতি কমিয়েছেন, আবার কখনো অনায়াসে বাড়িয়ে কাজ সেরেছেন তুড়ি মেরে। এ যেন মাস্টারক্লাস ছক কষে ম্যাচ বের করে নেয়া। ম্যাচ শেষে জানান, এই কৌশল তিনি শিখেছেন ডাগআউটে বসে দুই ‘গ্রেট’ ক্রিকেটারের কাছ থেকে। সঞ্জুর ভাষায়, ‘গত ১০ বছর ধরে দেশের হয়ে আছি, আমি সবসময় খেলিনি ঠিকই, কিন্তু ডাগআউট থেকে দেখেছি, ভিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা এবং অন্যান্য গ্রেট ক্রিকেটারদের থেকে শিখেছি। আমি মনে করি তারা কী করছিল তা পর্যবেক্ষণ করা এবং দেখা খুব গুরুত্বপূর্ণ আমি হয়তো মাত্র ৫০ বা ৬০টি ম্যাচ খেলেছি, কিন্তু আমি প্রায় ১০০টি ম্যাচ কাছে থেকে দেখেছি এবং লক্ষ্য করেছি যে কিংবদন্তিরা কীভাবে ম্যাচ শেষ করে আসেন।’
শেষ ওভারে রোমারিও শেফার্ডের বলে ছক্কা ও চার মেরে দলকে জিতিয়ে মাটিতে বসে পড়েন সঞ্জু। ওপরের দিকে তাকিয়ে কিছুটা সময় প্রার্থনা করে নেন, তার চোখ তখন জলে ছলছল। নিজেকে এমন বড় মঞ্চে প্রমাণের যে বড্ড বাকি ছিল! কেরালার এই ব্যাটার পরে বলেছেন, ‘এটাই আমার জীবনের সেরা দিন।’
নিজেকেই কাঠগড়ায় তুলছেন অধিনায়ক
পাওয়েল ও হোল্ডারের শেষের ঝড়ে ১৯৫ রান পর্যন্ত যেতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে ম্যাচের মাঝবিরতিতে টিভি সাক্ষাৎকারে পাওয়েল বলেন, ব্যাটিং স্বর্গ উইকেটে ও ছোট সীমানার মাঠে রান অন্তত ১০-১৫ কম মনে হচ্ছে তার কাছে। শেষ পর্যন্ত হয়েছে সেটিই। ম্যাচ শেষ ওভারে গড়ালেও ভারত জিতে যায় ৫ উইকেটে। ম্যাচের পর ব্যাটিংয়ের ধরন নিয়ে প্রশ্নে অকপটেই নিজের ঘাটতি মেনে নিলেন শাই হোপ।
‘হ্যাঁ, দায় আমি নিচ্ছি। আরও দ্রুতগতির ইনিংস খেলা উচিত ছিল আমার। তবে এরকম পরিস্থিতিতে, যখন কেউ খুব ধুঁকছে, সেদিক থেকে মনে হয় না খুব খারাপ ব্যাট করেছি।স্রেফ শটগুলো ফিল্ডার সোজা মারছিলাম।’
‘মাঝে মধ্যে যে রকম হয়, কখনো কখনো বল মারলেও জায়গামতো যায় না। মাঠে নেমে প্রতিটি বলেই হিট করতে পারলে তো ভালোই লাগত। কিন্তু আজকে কোনোভাবেই হচ্ছিল না। ফিল্ডারের কাছে সরাসরি মেরেছি কিছু শট, সেটাও পরিস্থিতি কঠিন করে তুলেছে আরও। এছাড়া সত্যি বলতে, ভারত বেশ ভালো বোলিংও করেছে।’
‘আমরা বেশ ভালো ভিত পেয়েছিলাম। পাওয়ার প্লেতে আমি আরও মসৃণ গতিতে এগোতে পারলে অবশ্যই ভালো হতো। তবে তার পরও তো কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪৫ রান ছিল আমাদের। এই দলের ব্যাটিং গভীরতা যতটা, শুরুটায় তাই খুব বড় সমস্যা দেখি না। অবশ্যই আরও বড় স্কোরের চেষ্টা করছিলাম। এসব মানদ-ই আমরা বেঁধে দিয়েছি দল হিসেবে।’
আন্তর্জাতিক: খামেনির স্ত্রীও মারা গেলেন
অর্থ-বাণিজ্য: হরমুজ প্রণালি বন্ধ করায় বিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দাম
অর্থ-বাণিজ্য: পরপর তিন দিন বাড়লো সোনার দাম
অর্থ-বাণিজ্য: সূচকের উত্থানে লেনদেন ৭৭৯ কোটি টাকা