নারী এশিয়া কাপে নয়বারের চ্যাম্পিয়ন চীন। এই দলটির সঙ্গে ঋতুপর্ণাদের লড়াইয়ে একবারের জন্যও মনে হয়নি লাল সবুজদের অভিষেক ম্যাচ। যুগ যুগ ধরে এশিয়ান কাপে খেলছে চীন। সেখানে প্রথমবার খেলতে নেমেই অসাধারন নৈপূণ্য দেখিয়েছেন আফঈদা খন্দকার, শামসুন্নাহার, আনিকারা। মঙ্গলবার, (০৩ মার্চ ২০২৬) সিডনিতে মুগ্ধতা ছড়ানো সেই লড়াইয়ে চীনের কাছে ২-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। জয়ী দলের হয়ে গোল দুটি করেন ওয়াং শুয়াং ও ঝাং রুই।
হাজার বিশেষ দর্শক ধারন ক্ষমতার অনন্য এক ভেন্যু কমনওয়েলথ ব্যাংক স্টেডিয়াম। শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে স্বদেশের খেলা দেখতে হাজির হয়েছিলেন প্রায় হাজারখানে প্রবাসী বাংলাদেশি।
চীনের র্যাংকিং ১৭, বাংলাদেশের ১১২। অসম লড়াইয়ে বাংলাদেশ কেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সেটাই ছিল দেখার। বাংলাদেশ নির্ধারিত ৯০ মিনিট পজিটিভ ফুটবলই খেলেছে। ডিফেন্সে বেশি খেলোয়াড় রাখলেও মিডফিল্ডে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে আক্রমণও হয়েছে বাংলাদেশের। চীনের ফুটবলাররা বাংলাদেশের চেয়ে ফিজিক্যালি, টেকনিক্যালি অনেক এগিয়ে। তবে মাঠের লড়াইয়ে বাংলাদেশ দলের ফিটনেস ছিল প্রশংসনীয় পর্যায়ে। বল দখলের লড়াই কিংবা তাড়ায় খুব বেশি পেছনে ছিলেন না ঋতুপর্ণারা।
এই টুর্নামেন্টে নবাগত বাংলাদেশের কার্যত হারানোর কিছু নেই। যে কারনে অনেকটাই নির্ভার হয়ে মাঠে নেমেছিল আফঈদার দল। শুরু থেকেই দুর্দান্ত পারফরমেন্স উপহার দেয়া বাংলাদেশ একসময় এগিয়েও যেতে পারত। ঋতুপর্ণার দারুণ বাঁকানো শট চীনের গোলরক্ষক চেন চেনের আঙুলের ডগায় লেগে কর্নার হলে বাংলাদেশ গোলবঞ্চিত হয়।
ম্যাচের শুরুর দিকে দুটি গোলের সুযোগ পায় দুই দলই। মাত্র ১৩ মিনিটে ঋতুপর্ণা চাকমা বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শট করলে তা জালে প্রবেশের মুহুর্তে লাফিয়ে গোলবারের সামনে রেখে রুখে দেন চীনের গোলকিপার চেন চেন। ২৪ মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে জিন কুনের ক্রসে আসা বলে মাথা দিয়ে আলতো ছুয়ে দেন বক্সের ভেতরে থাকা ওয়াং শুয়ায়। পরাস্ত হন গোলকিপার মিলি। কিন্ত‘ চোখ এড়ায়নি তৃতীয় রেফারির। চীন উৎসবে মেতে উঠলেও ভিএআর পদ্ধতিতে রিপ্লে দেখে অফসাইডের কারণে গোল বাতিল করেন থাই রেফারি পানসা চাইসানিত। তবে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন চীনকে প্রথম গোল পেতে ৪৪ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। প্রথমার্ধের শেষ দুই মিনিটে দুই গোল করে চীন। চীনের ওয়াং শুয়াং দূর পাল্লার শটে গোল করেন। এক মিনিট পরই চীন আরেকটি গোল পায় ঝাং রুই। এই গোলে অবশ্য বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের দায় রয়েছে। কয়েক দফা ঠিক মতো ক্লিয়ার করতে পারেননি। পরবর্তীতে ঝাং রুইয়ের শট বাংলাদেশের দুই ডিফেন্ডার কোহাতি ও অধিনায়ক আফঈদার পায়ে লেগে বল জালে জড়ায়। এই গোলটিও ভিএআরে পরীক্ষা করলেও সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের বিপক্ষে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ বল পজেশনে আগের চেয়ে উন্নতি করে। এই অর্ধে খানিকটা রক্ষণের খোলস ভেঙে আক্রমণেরও চেষ্টা করেছে। গোলকিপার মিলি আক্তার জাতীয় দলে নিয়মিত একাদশে খেলেন না। এশিয়ান কাপের মঞ্চে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে প্রথম দিকে নার্ভাস ছিলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেন। বেশ কয়েকটি ভালো রক্ষা করেন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বাংলাদেশ তিন পরিবর্তন করে। উমহেলা মারমা, শিউলি আজিম ও নবীরন খাতুনের পরিবর্তে তহুরা খাতুন, হালিমা খাতুন ও স্বপ্না রানী নামেন। ৮৫ মিনিটের সময় বাংলাদেশের পক্ষে অভিষেক হয় সুইডিশ প্রবাসী আনিকা রহমানের। চীন দ্বিতীয়ার্ধে তিন জন খেলোয়াড় পরিবর্তন করলেও গোল ব্যবধান আর বাড়াতে পারেনি। শেষে ২-০ গোলের এএফসি নারী এশিয়ান কাপে যাত্রা শুরু করল বাংলাদেশ।
চার বছর আগে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে নবম শিরোপা জিতেছিল চীন, যা তাদের টুর্নামেন্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ সাফল্য। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ছন্দ হারানো দলটি অস্ট্রেলিয়ান কোচ আন্তে মিলিসিচের অধীনে পুরোনো গৌরব ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
আগামী শুক্রবার সকাল ৮টায় লাল সবুজের মেয়েদের পরবর্তী ম্যাচ উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে।
উত্তর কোরিয়ার দাপুটে জয়
তিনবারের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া ৩-০ গোলে উজবেকিস্তানকে পরাজিত করেছে। মঙ্গলবার ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্রুপ-বি’র ম্যাচে মায়ং ইউ জংয়ের প্রথমার্ধে হ্যাটট্রিক করেন।
১৪ মিনিটে ঘাড়ের চোটে উজবেকিস্তানের মূল গোলরক্ষক জোনিমকুলোভা মাঠ ছাড়লে তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
ষষ্ঠ মিনিটে গোলমুখের জটলা থেকে নিখুঁত শটে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন মিডফিল্ডার মায়ং । ২৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। ৪১ মিনিটে আরেকটি স্পট কিক থেকে বাঁ দিকের কোণে বল জড়িয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন মায়ং।
বর্তমানে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে নবম স্থানে থাকা উত্তর কোরিয়া অনূর্ধ্ব-২০ ও অনূর্ধ্ব-১৭ নারী দলের সাফল্যের ধারাবাহিকতা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় এসেছে।
তারা গত বছর মরক্কোতে অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখে এবং ২০২৪ সালে কলম্বিয়ায় অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জয় করে।