কোন মেয়াদ নেই, সময় নির্ধারন করেও দেয়া নেই। চলছে তো চলছেই। যেন অফুরন্ত সময় পেয়েছে দেশের ক্রীড়া ফেডারেশনগুলো। অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ তিনমাস থাকলেও তা চলছে দেড় বছর ধরে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দেয়া অ্যাডহক কমিটি দিয়েই চলছে দেশের ক্রীড়াঙ্গণ। তবে এবার বইছে নির্বাচনী হাওয়া। গোড়া থেকেই নির্বাচন শুরু করতে চায় বর্তমান সরকার। উপজেলা ও জেলা এবং বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থায় আগে নির্বাচন আয়োজন করতে চায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। এরপর জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের এটাই কি পথ?
অবশ্য তা নামনে নারাজ ক্রীড়া সংগঠকরা। তাদের মতে, এখন উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন হলে বর্তমান অ্যাডহক কমিটির কর্তাদের প্রভাব থাকবে। তাই বর্তমান সরকারের উচিত জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশনে ফের অ্যাডহক কমিটি দিয়ে তারপর উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থায় নির্বাচন দেয়া। তাতে স্বচ্ছতা বাড়বে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে সার্চ কমিটির সুপারিশে দেশের ৪৯টি ক্রীড়া ফেডারেশন/অ্যাসোসিয়েশনে অ্যাডহক কমিটি দেয়া হয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হওয়ায় অনির্বাচিত ফেডারেশসমূহে নির্বাচন আয়োজনের দাবি ওঠেছে। তবে ক্রীড়া ফেডারেশনসমূহের নির্বাচনের আগে উপজেলা, জেলা এবং বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাসমূহের নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনার কথা শুনিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ‘আগামী তিন মাসের মধ্যে সুন্দর এবং স্বচ্ছভাবে উপজেলা পর্যায় থেকে জেলা, বিভাগে নির্বাচন সম্পন্ন করে ক্রীড়া ফেডারেশনসমূহের নির্বাচন শেষ করতে চাই।’
সার্চ কমিটির সুপারিশে গঠিত বিভিন্ন জেলা-বিভাগ এবং ক্রীড়া ফেডারেশনসমূহের অ্যাডহক কমিটিতে পরিবর্তনের আভাস তীব্র। অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলে গঠিত সার্চ কমিটির আহ্বায়ক জোবায়দুর রহমান রানা সেই আমলে অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) নির্বাচিত মহাসচিব হয়েছেন। বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা এবং ফেডারেশনসমূহের অ্যাডহক কমিটির সদস্যদের ভোটে গঠিত বিওএর কার্যনির্বাহী কমিটিতে যারা আছেন, এসব সংস্থায় নির্বাচন হলে তাদের অধিকাংশকে যাবে না ক্রীড়াঙ্গনে দেখা। ফেডারেশনসমূহের নেতৃত্বে যারা আসবেন, তারা কী তখন বিওএ-কে সহযোগিতা করবে? অন্যদিকে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচনে ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর বর্তমান অ্যাডহক কমিটির কর্মকর্তাদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। ক্রীড়া সংগঠক দেলোয়ার হোসেনের মতে, ‘বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনের বর্তমান অ্যাডহক কমিটি বিদ্যমান থাকলে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থায় নির্বাচন করে কোন লাভ নেই। কারন সেখানে তাদের প্রভাব থাকতে পারে।
তাই উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচনের আগে জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোতে ফের অ্যাডহক কমিটি বসাতে হবে। যারা প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না তৃণমূলের নির্বাচনে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) মো. আমিনুল এহসান অবশ্য এতটা উদ্বিগ্ন নন। তার কথা, ‘কোন কিছুই এত সহজ হবে না। জেলা ও বিভাগের নির্বাচনে কেউ প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। আমরা সব কিছুই দেখব।’