সিডনির কমব্যাংক স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে এসে প্রতিপক্ষ বাংলাদেশকে মোটেই খাটো করে দেখছেন না উত্তর কোরিয়ার কোচ রিসন হো। বরং শক্তির ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও তার কথায় ছিল প্রতিপক্ষের প্রতি স্পষ্ট সম্মান।
বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে শুরুতেই দোভাষীর মাধ্যমে রিসন হো বলেন, ‘আমি এখানে এসে চীন ও বাংলাদেশের ম্যাচটি দেখেছি। আমার মনে হয়েছে, বাংলাদেশ দল আমি যতটা ভেবেছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। তাদের আক্রমণভাগ খুব দ্রুতগতির এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে যাওয়ার গতি ও দক্ষতাও বেশ তীক্ষ্ণ। তারা খুব দ্রুতগতির একটি দল। তাই আগামী ম্যাচে আমাদের রক্ষণভাগকে অনেক বেশি মনোযোগী থাকতে হবে, যাতে তারা গোল করার কোনও সুযোগ না পায়।’
গ্রুপ পর্বে উত্তর কোরিয়ার লক্ষ্য সবগুলো ম্যাচ জেতা, কোচের কণ্ঠে ছিল সেই প্রত্যয়ের সুর। তিনি বলেন, ‘আমি পরিস্থিতি বুঝতে পারছি যে দুটি ম্যাচের পর তৃতীয় ম্যাচটি যদি ড্র হয়, তাহলে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা দল সুবিধা পেতে পারে। কিন্তু এটি আমাদের প্রধান কৌশল নয়। আমরা গ্রুপের তিনটি ম্যাচই জিততে চাই। তাই গোল ব্যবধান বাড়িয়ে সুবিধা নেয়ার চেয়ে আমরা প্রতিটি ম্যাচ জয়ের দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছি। তিনটি দলই খুব শক্তিশালী। কোনও দলকেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। আজকের ম্যাচটি আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে।’
বাংলাদেশের নাম শুনলে প্রথমে কী মনে পড়ে-এমন প্রশ্নে উত্তর কোরিয়ার কোচ বলেন,‘বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের দলগুলো খুব দ্রুত উন্নতি করছে। চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দেখে মনে হয়েছে, বাংলাদেশ অনেক বড় অগ্রগতি করেছে। এখন তারা এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে উঠে আসছে।’ তারপরেই হাসতে হাসতে যোগ করে বলেছেন, ‘আর বাংলাদেশ বললে কি প্রথমে ক্রিকেটের কথাই মনে পড়ে না?’
বাংলাদেশের কয়েকজন খেলোয়াড়কে আলাদাভাবে নজরে রাখার কথাও জানিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার কোচ। তার মতে, ‘বাংলাদেশের আক্রমণভাগের তিন জন খেলোয়াড়কে আমরা বিপজ্জনক মনে করছি। বিশেষ করে ১৭ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড়কে (ঋতুপর্ণা) নিয়ে আমরা সতর্ক, যিনি বাম প্রান্ত দিয়ে খুব দ্রুত আক্রমণে যেতে পারেন। আগেই বলেছি, তাদের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের গতি অনেক বেশি। আক্রমণ এবং রক্ষণ—উভয় ক্ষেত্রেই তাদের গতি আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। তাই আজকের ম্যাচে এই খেলোয়াড়দের থামাতে আমাদের রক্ষণভাগকে আরও বেশি মনোযোগী থাকতে হবে।’