image

ম্যাচসেরার পুরস্কার বুমরাহর প্রাপ্য: সঞ্জু স্যামসন

সংবাদ স্পোর্টস ডেস্ক

ভারত-ইংল্যান্ডের রান জোয়ারের সেমিফাইনালে রান আটকে রেখে স্তুতির স্রোত ভাসছেন ভারতীয় পেসার জাসপ্রিত বুমরাহ । গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ২০ ওভারে ২৫৩ রান তুলেও ইনিংসজুড়ে স্বস্তিতে ছিল না ভারত। তুমুল লড়াই করে শেষ পর্যন্ত ২৪৬ রানে থমকে যায় ইংল্যান্ড। ইংলিশদের সেই আটকে রাখার বড় কৃতিত্ব জাসপ্রিত বুমরাহর। ইংল্যান্ডের রান তাড়ায় অষ্টাদশ ওভারে মাত্র ৬ রান দেন তিনি। ৪ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন তিনি। রান উৎসবের ম্যাচে তিনি ছিলেন সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলার। দুই দল মিলিয়ে ম্যাচে রান উঠেছে ওভারপ্রতি প্রায় সাড়ে ১২ করে। বুমরাহ সেখানে রান দিয়েছেন ওভারপ্রতি ৮.২৫। ৪২ বলে ৮৯ রান করে ধারাভাষ্যকার সঞ্জয় মাঞ্জরেকারের মতে, ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছেন বুমরাহ। ‘ম্যাচের এত অবদান নিয়ে বলার আছে দুই দলেরই ব্যাটিং ছিল রোমাঞ্চকর। তবে দিন শেষে ব্যবধান গড়ে দিয়েছে একজনই- দ্য গ্রেট বুমরাহ।’

ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলের কণ্ঠেও একই সুর। ‘ম্যাচজুড়ে ছোট ছোট অনেক গুরুত্বপূর্ণ পারফরম্যান্স আছে ভারতের। ব্যাটিংয়ের শেষ দিকে তিলাক ভার্মা, সব জায়গাতেই ছিলেন হার্দিক পান্ডিয়া, আকসার ফিল্ডিংয়ে ছিলেন চোখধাঁধানো কিন্তু সবসময়ের ডায়মন্ড জাসপ্রিত বুমরাহ।’ বিশ্বকাপ শুরুর সময় ভারতের মূল একাদশে স্যামসনের জায়গা নিশ্চিত ছিল না। কিন্তু কয়েকটি ম্যাচের মধ্যেই তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন দলের অন্যতম ভরসাযোগ্য ব্যাটার হিসেবে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ইনিংস গড়ে তোলা এবং ম্যাচ শেষ করে আসার ক্ষমতা দেখিয়ে দলের আস্থার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন তিনি।

তবে এই উত্থানের পেছনে ছিল এক কঠিন মানসিক লড়াই। স্যামসন নিজেই জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের আগে সময়টা তার জন্য খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ড সিরিজে দলে জায়গা পাওয়ার জন্য অতিরিক্ত চাপ নিয়ে খেলতে গিয়েছিলেন তিনি।

স্যামসনের ভাষায়, ‘সময়টা আমার জন্য খুব কঠিন ছিল। দেশের হয়ে অবদান রাখতে এবং বিশ্বকাপে ম্যাচ জিততে আমি খুবই আগ্রহী ছিলাম। কিন্তু নিউজিল্যান্ড সিরিজে হয়তো একটু বেশি চেষ্টা করে ফেলেছিলাম। একাদশে জায়গা পেতে চেয়েছিলাম বলেই এমনটা হয়েছে। টি-২০ ক্রিকেট খুব অদ্ভুত হতে পারে, বিশ্বের সেরা ব্যাটাররাও এই ফরম্যাটে রান করতে হিমশিম খায়। তাই আমাকে খেলাটাকে সম্মান করতে হয়েছে এবং নিজের মৌলিক জায়গায় ফিরে যেতে হয়েছে।’

স্যামসন বলেন, ‘কঠিন সময় যখন এসেছিল, তখন আমার কাছের মানুষরা পাশে ছিল। আমি সব জানালা বন্ধ করে দিয়েছিলাম, ফোনও বন্ধ রেখেছিলাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেও দূরে ছিলাম, এখনও আছি।

কম শব্দ, কম মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, এগুলো আমাকে সঠিক পথে মনোযোগ দিতে সাহায্য করেছে। এখন আমি খুব খুশি, কারণ মনে হচ্ছে ঠিক পথেই এগোচ্ছি।’

‘খেলা’ : আরও খবর

সম্প্রতি