image
শনিবার সিডনিতে পৌঁছানোর পর বিশ্রামে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। পার্থের হোটেলের লনে খোশমেজাজে দিন কাটায় মেয়েরা

উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের স্বপ্ন নিয়ে পার্থে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল

ক্রীড়া বার্তা পরিবেশক

গ্রুপের দুই শক্তিশালী দল চীন ও উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ হেরেও হতাশায় ভেঙে পড়েননি বাংলাদেশের মেয়েরা । বরং নারী এশিয়ান কাপের দুই চ্যাম্পিয়ন দলের বিপক্ষে হেরে যাওয়া ম্যাচ থেকে অনেক কিছু শিখেছেন ঋতুপর্ণা-আফঈদারা । সেই শিক্ষা আর নতুন স্বপ্ন নিয়ে পা রেখেছেন পার্থে।

‘বি’ গ্রুপে নিজেদের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে আগামী সোমবার পার্থে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। দুই দলই চীন ও উত্তর কোরিয়ার কাছে হেরেছে। পয়েন্টের খাতা কারো খোলা না হলেও গোল বেশি হজম করায় বাংলাদেশ গ্রুপ টেবিলের তলানিতে, উজবেকিস্তান তৃতীয় স্থানে।

এবারের আসরের তিন গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপের বাইরে তিন গ্রুপে তৃতীয় হওয়া তিন দলের মধ্যে সেরা দুই দল যাবে কোয়ার্টার-ফাইনালে। তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মধ্যে সেরা দুইয়ে থাকতে হলে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জিততে হবে বাংলাদেশকে।

দেশে থাকতেও উজবেকিস্তান ম্যাচ নিয়ে বেশি ছক কষেছেন বাংলাদেশ কোচ পিটার জেমস বাটলার। মেয়েদেরও লক্ষ্য ছিল এই ম্যাচটিই। কেননা, এই গ্রুপে চীন নারী এশিয়া কাপের নয় বারের এবং উত্তর কোরিয়া তিন বারের চ্যাম্পিয়ন। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে উজবেকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশে ৬৩ ধাপ পিছিয়ে থাকলেও দলের মূল টার্গেট ছিল উজবেকিস্তানই।

সিডনি থেকে শনিবার, (০৭ মার্চ ২০২৬)পার্থে পৌঁছায় বাংলাদেশ। গত দুই ‘বড়’ ম্যাচের ধকল কাটিয়ে দলকে সতেজ রাখতে শনিবার খেলোয়াড়দেও বিশ্রাম দিয়েছেন কোচ বাটলার। শনিবার ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) মাধ্যমে পাঠানো বার্তায় দলের ফিজিও অবশ্য জানিয়েছেন, সবকিছু আছে ঠিকঠাক।

‘হ্যাঁ, ম্যাচটা (উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে) বেশ কঠিন ছিল। আমি বলব, মানসিকভাবে মেয়েরা ম্যাচের পরপরই কিছুটা আপসেট ছিল, তবে আমার মনে হয় সেটা হওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু তারা খুব দ্রুতই নিজেদের সামলে নিয়েছে। আমরা আজ পার্থে পৌঁছেছি। সব খেলোয়াড়ই বেশ ভালো বোধ করছে।’

‘সত্যি বলতে, চীনের বিপক্ষে ম্যাচটি শারীরিকভাবে বেশি চ্যালেঞ্জিং ছিল। বর্তমানে খেলোয়াড়রা মূলত সবাই সুস্থ আছে; বড় কোনো চোট নেই। ছোটখাটো কিছু সমস্যা আছে, যা আমাদের আজ সামলাতে হবে। আমরা এইমাত্র পার্থের হোটেলে পৌঁছেছি এবং আমাদের মেডিকেল রুম গুছিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি। আজ বিকেলের দিকেই চিকিৎসা বা সেশন শুরু করবো। মেয়েরা ফুরফুরে মেজাজে আছে। আমরা হালকা শরীরচর্চা ও স্ট্রেচিং করেছি। তারা হাসিখুশি আছে, তবে একই সঙ্গে পরবর্তী ম্যাচের জন্য যথেষ্ট মনোযোগী ও প্রস্তুত।’ চীন ও উত্তর কোরিয়া বিপক্ষে হার মেনে নিয়ে দল নতুন স্বপ্ন দেখছে বলে জানিয়েছেন ইসনাদ।

‘আমার মনে হয়, উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর তারা ভালোভাবেই সেরে উঠছে। আজ মানসিকভাবে তারা বেশ চাঙা হয়ে উঠেছে। ৫-০ গোলে হারের পরও তারা খুব বেশি ভেঙে পড়েনি। তারা মেনে নিয়েছে যে, উত্তর কোরিয়া খুব শক্তিশালী দল ছিল, তবে একই সঙ্গে তারা এটাও বুঝতে পারছে যে তারা নিজেদের সেরাটা দিতে পারেনি। তাই তারা পরবর্তী ম্যাচের জন্য এখন পুরোপুরি মনোযোগী।

আগামীকাল আমাদের একটি ট্রেনিং সেশন আছে; আজ আমরা পার্কে গিয়েছিলাম।’

‘আমার মনে হয় আমাদের টুর্নামেন্টটা বেশ ভালো কাটবে। চীনের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তারা দারুণ খেলেছে। উজবেকিস্তান ম্যাচের জন্য মেয়েরা এখন পুরোপুরি প্রস্তুত এবং আশা করি ম্যাচটি ভালো হবে।’

সম্প্রতি