image
সালমানকে রানআউট করার জন্য বল কুড়াচ্ছেন মিরাজ

ক্রিজ ছেড়ে বল কুড়াতে গিয়ে বিতর্কিত রান আউট সালমান

ক্রীড়া বার্তা পরিবেশক

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার ম্যাচে এক চরম নাটকীয় এবং বিতর্কিত অদ্ভুত রান আউটের শিকার হলেন পাকিস্তানি ব্যাটার সালমান আলী আগা। বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের উপস্থিত বুদ্ধিতে এই রান আউটের ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে মাঠে তুমুল উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে এবং ‘স্পিরিট অব ক্রিকেট’ নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে পাকিস্তানের ২৭৪ রানের জবাবে বাংলাদেশ ৬.৩ ওভারে ৩ উইকেটে ২৭ করার পর বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। আউট হন তানজীদ ১, সাইফ ১২ ও শান্ত ০ রানে।

ঘটনাটি ঘটে মিরাজের ওভার চলাকালীন। মিরাজের একটি ডেলিভারি মোহাম্মদ রিজওয়ান বোলার বরাবর ডানদিকে ঠেলে দেন। মিরাজ দ্রুত ডানদিকে সরে পা দিয়ে বলটি আটকান। এ সময় নন-স্ট্রাইক প্রান্তে থাকা সালমান আগার একেবারে সামনে চলে যান মিরাজ এবং দুজনের মধ্যে কিছুটা সংঘর্ষ হয়। বলটি দুজনের পায়ের কাছে গিয়ে থেমে যায়।

সালমান তখন ক্রিজের বাইরে ছিলেন। তিনি স্পোর্টসম্যানশিপ দেখিয়ে বলটি কুড়িয়ে বোলার মিরাজের হাতে তুলে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ক্রিজে ঢোকার কোনো চেষ্টাই করেননি। মিরাজ কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বলটি তুলে নিয়ে আন্ডারআর্ম থ্রোতে স্টাম্প ভেঙে দেন। সালমান তখনো ক্রিজের বাইরে এবং পুরো ঘটনায় তিনি রীতিমতো হতবাক হয়ে যান।

অন-ফিল্ড আম্পায়ার তানভীর আহমেদ সঙ্গে সঙ্গেই সিদ্ধান্তটি থার্ড আম্পায়ারের কাছে পাঠান। নিয়ম অনুযায়ী বলটি তখনো ‘ডেড’ হয়নি এবং বোলার হিসেবে মিরাজের এই রান আউট করার পূর্ণ অধিকার ছিল। ফলে থার্ড আম্পায়ার খুব সহজেই সালমানকে আউট ঘোষণা করেন। এই আউটের ফলে ৬২ বলে ৭টি চার ও ২টি ছক্কায় সালমানের ৬৪ রানের দারুণ এক ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে।

আউট হওয়ার পর সালমান আগা চরম ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান। মাঠ ছাড়ার আগে মিরাজের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে দেখে উইকেটরক্ষক লিটন দাসও এগিয়ে আসেন এবং তাকেও শান্ত করতে রিজওয়ানকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

সালমান এতটাই ক্ষুব্ধ ছিলেন যে, আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের পরপরই তিনি রাগে নিজের হেলমেট এবং গ্লাভস খুলে ছুঁড়ে মারেন। সাজঘরের দিকে হেঁটে যাওয়ার সময় বাউন্ডারি লাইনের কাছাকাছি গিয়েও তাকে একইভাবে হেলমেট ও গ্লাভস ছুঁড়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

তার ৬২ বলের ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ২টি ছক্কা। এর এক বল পর ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রিজওয়ানও। করেন ৫৯ বলে ৪৪ রান।

পাকিস্তান ২০তম ওভারে ১২২/৩ থেকে জুটি বেঁধে ১০৯ রান যোগ হওয়ার পর ৪৩ রানে সাত উইকেট হারিয়ে ২৭৪ রানে অলআউট হয় ইনিংসের ১৫ বল বাকি থাকতে।

পাকিস্তানের বিনা উইকেটে ১০৩ রান তোলার পর দ্রুত ৩ উইকেট হারায় ১৯ রানে। পরে পাকিস্তানের ইনিংসকে ফের একটা জায়গায় নিয়ে যান রিজওয়ান ও সালমান আগা। চতুর্থ উইকেটে ১০৯ রান যোগ করেন তারা। যেখানে ফিফটির দেখা পান সালমান। ৩৯তম ওভারেই এই জুটি ভাঙে এক অদ্ভুত রান আউটে ২৩১/৪। এর এক বল পর ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রিজওয়ানও। করেন ৫৯ বলে ৪৪ রান।

পাকিস্তানের ইনিংসের ২০তম ওভারে ১২২/৩ থেকে সালমান-রিজওয়ান জুটি বেধে ১০৯ রান যোগ করার পর ৪৩ রানে সাত উইকেট হারিয়ে ২৭৪ রানে অলআউট হয় ইনিংসের ১৫ বল বাকি থাকতে।

‘খেলা’ : আরও খবর

সম্প্রতি