alt

opinion » editorial

মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রতিশ্রুতি অনেক, ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ

: শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫

দেশে মাদকাসক্ত মানুষের সংখ্যা এখন ৮৩ লাখে পৌঁছেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ মাদকাসক্ত। ২০১৮ সালের তুলনায় এই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। দেশে মাদক নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ কতটা কার্যকর সেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দেশের ৩২টি সীমান্তবর্তী জেলা দিয়ে নানা উৎস থেকে মাদক প্রবেশ করছে। গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল, গোল্ডেন ক্রিসেন্ট বা ভারত-মিয়ানমার সংযোগপথ থেকে ইয়াবা, ফেনসিডিল, ক্রিস্টাল মেথের এত মারাত্মক মাদক দেশে অনুপ্রবেশ করছে। অথচ চিহ্নিত ১০৪টি ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্টে কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা এখনো যথেষ্ট নয়।

মাদক নিয়ন্ত্রণে কর্মরত সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি স্পষ্ট। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেক সময় শুধু ছোট খুচরা ব্যবসায়ী বা মাদকসেবীদের আটক করে; কিন্তু বড় মাদক ব্যবসায়ী ও গডফাদারদের ধরতে ব্যর্থ হয়। এমনকি বিচারিক প্রক্রিয়াও প্রশ্নবিদ্ধ। ২০২৪ সালে হওয়া মাদক মামলার অর্ধেকেই সব আসামি খালাস পেয়েছেন।

মাদক শুধু আইনশৃঙ্খলা নয়, জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির জন্যও বড় হুমকি। জাতিসংঘের তথ্যমতে, প্রতি বছর মাদকের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে পাচার হচ্ছে প্রায় ৫ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাদক শুধু জীবন ধ্বংস করছে না, বৈধ অর্থনীতির বাইরে গিয়ে অপরাধ অর্থনীতিকে পুষ্ট করছে। এছাড়া মাদকাসক্তির ফলে তরুণ সমাজ কর্মক্ষমতা হারাচ্ছে, পরিবারে অশান্তি বাড়ছে, এবং চিকিৎসায় রাষ্ট্র ও সমাজের বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে।

চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও ঘাটতি প্রকট। সরকারি পর্যায়ে মাত্র ২৭৯ জনকে একসঙ্গে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। যদিও বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রের সংখ্যা বেশি, কিন্তু সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সরকার ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭টি বিভাগীয় মাদক নিরাময় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে, যা প্রশংসনীয়, তবে যথাসময়ে ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।

মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইকে শুধু পুলিশি ব্যবস্থা দিয়ে রোধ করা সম্ভব নয়। এ সংকট মোকাবেলায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং নাগরিক সচেতনতার সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন। পাশাপাশি সীমান্ত নজরদারি জোরদার করা, বিচারিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং তরুণদের জন্য ইতিবাচক বিকল্প কার্যক্রম নিশ্চিত করা জরুরি।

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে দুর্নীতির অভিযোগ আমলে নিন

নারী ও শিশু নির্যাতনের উদ্বেগজনক চিত্র

ভবদহের জলাবদ্ধতা: শিক্ষা ও জীবনযাত্রার উপর অব্যাহত সংকট

সৈয়দপুরে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের দুর্দশা

জমি রেজিস্ট্রিতে ঘুষের বোঝা: সাধারণ মানুষের ভোগান্তি

মবের নামে মানুষ হত্যা : সমাজ কোথায় যাচ্ছে?

‘জুলাই জাতীয় সনদ’ : কেন প্রশ্ন তোলা যাবে না

সুন্দরবন রক্ষায় টেকসই ব্যবস্থা নিন

মামলা, গ্রেপ্তার, জামিন : প্রশ্নবিদ্ধ আইনের শাসন

শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাশ্রমে সাঁকো নির্মাণ : ঐক্য ও উদ্যমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

বন্যা ও ভাঙন : দ্রুত ব্যবস্থা নিন

অ্যান্টিভেনমের সরবরাহ নিশ্চিত করুন

ভূমি অফিসে ঘুষ বন্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিন

জন্ম নিবন্ধনে জটিলতা দূর করা জরুরি

‘সাদা পাথর’ লুটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিন

সার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ আমলে নিন

তরুণদের জন্য আলাদা বুথ! সিদ্ধান্ত কার? কেন?

চিকিৎসক সংকটে জীবননগরের স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

গণপিটুনির সংস্কৃতি রুখতে হবে এখনই

সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনের ঘটনার বিচার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন

ইউনিয়ন পরিষদে নাগরিক সেবায় ভোগান্তির অবসান ঘটান

সড়কে মৃত্যু : দুর্ঘটনা নাকি অব্যবস্থাপনার ফল?

অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর

নির্বাচনের ঘোষণায় স্বস্তি, তবে আছে অনেক চ্যালেঞ্জ

‘জুলাই ঘোষণাপত্র’: কিছু জিজ্ঞাসা

বয়স্ক ভাতা পেতে আর কত অপেক্ষা

ডিএনডি এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নিন

গণঅভ্যুত্থানের এক বছর: প্রত্যাশায় কী প্রাপ্তি

অবৈধ মিনি পেট্রোল পাম্পের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

অজগর হত্যা : বন্যপ্রাণীর সুরক্ষায় চাই জনসচেতনতা

লেভেল ক্রসিংয়ে প্রাণহানি : অব্যবস্থাপনার দুর্ভাগ্যজনক চিত্র

ঠাকুরগাঁওয়ে জলাতঙ্ক টিকার সংকট দূর করুন

পাহাড় কাটা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

বনমালীনগরে পাকা সড়কের জন্য আর কত অপেক্ষা

সার বিতরণ ব্যবস্থায় অনিয়ম বন্ধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন

গাবতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংকট দূর করুন

tab

opinion » editorial

মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রতিশ্রুতি অনেক, ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ

শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫

দেশে মাদকাসক্ত মানুষের সংখ্যা এখন ৮৩ লাখে পৌঁছেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ মাদকাসক্ত। ২০১৮ সালের তুলনায় এই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। দেশে মাদক নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ কতটা কার্যকর সেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দেশের ৩২টি সীমান্তবর্তী জেলা দিয়ে নানা উৎস থেকে মাদক প্রবেশ করছে। গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল, গোল্ডেন ক্রিসেন্ট বা ভারত-মিয়ানমার সংযোগপথ থেকে ইয়াবা, ফেনসিডিল, ক্রিস্টাল মেথের এত মারাত্মক মাদক দেশে অনুপ্রবেশ করছে। অথচ চিহ্নিত ১০৪টি ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্টে কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা এখনো যথেষ্ট নয়।

মাদক নিয়ন্ত্রণে কর্মরত সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি স্পষ্ট। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেক সময় শুধু ছোট খুচরা ব্যবসায়ী বা মাদকসেবীদের আটক করে; কিন্তু বড় মাদক ব্যবসায়ী ও গডফাদারদের ধরতে ব্যর্থ হয়। এমনকি বিচারিক প্রক্রিয়াও প্রশ্নবিদ্ধ। ২০২৪ সালে হওয়া মাদক মামলার অর্ধেকেই সব আসামি খালাস পেয়েছেন।

মাদক শুধু আইনশৃঙ্খলা নয়, জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির জন্যও বড় হুমকি। জাতিসংঘের তথ্যমতে, প্রতি বছর মাদকের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে পাচার হচ্ছে প্রায় ৫ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাদক শুধু জীবন ধ্বংস করছে না, বৈধ অর্থনীতির বাইরে গিয়ে অপরাধ অর্থনীতিকে পুষ্ট করছে। এছাড়া মাদকাসক্তির ফলে তরুণ সমাজ কর্মক্ষমতা হারাচ্ছে, পরিবারে অশান্তি বাড়ছে, এবং চিকিৎসায় রাষ্ট্র ও সমাজের বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে।

চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও ঘাটতি প্রকট। সরকারি পর্যায়ে মাত্র ২৭৯ জনকে একসঙ্গে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। যদিও বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রের সংখ্যা বেশি, কিন্তু সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সরকার ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭টি বিভাগীয় মাদক নিরাময় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে, যা প্রশংসনীয়, তবে যথাসময়ে ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।

মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইকে শুধু পুলিশি ব্যবস্থা দিয়ে রোধ করা সম্ভব নয়। এ সংকট মোকাবেলায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং নাগরিক সচেতনতার সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন। পাশাপাশি সীমান্ত নজরদারি জোরদার করা, বিচারিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং তরুণদের জন্য ইতিবাচক বিকল্প কার্যক্রম নিশ্চিত করা জরুরি।

back to top