alt

opinion » editorial

জমি রেজিস্ট্রিতে ঘুষের বোঝা: সাধারণ মানুষের ভোগান্তি

: রোববার, ২৪ আগস্ট ২০২৫

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে ঘুষ আদায় করার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমন অভিযোগ আগেও ছিল। দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও সেখানে অনিয়ম-দুর্নীতি হচ্ছে বলে জানা গেছে। শুধু নাম বদলেছে, ব্যক্তি বদলেছে; কিন্তু ঘুষের পরিমাণ ও পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এ নিয়ে সংবাদ-এ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

জানা গেছে, পৌরসভার আওতাধীন আবাসিক জমির ক্ষেত্রে শতকপ্রতি ২০ হাজার টাকা, বাস্তু ও স্থাপনাবিহীন জমির জন্য শতকপ্রতি ৫ হাজার টাকা এবং ওয়ারিশ সত্ত্বের জমি রেজিস্ট্রির জন্য শতকপ্রতি ১ হাজার টাকা বাড়তি গুনতে হচ্ছে সেবাপ্রার্থীদেরকে। এছাড়া, হিন্দু বিধবা নারীদের জমি বিক্রির ক্ষেত্রে ১০ হাজার টাকা এবং নামের ভুল সংশোধনের জন্য ৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হচ্ছে। পাওয়ার দলিল থেকে কবলা করতে গেলেও ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হচ্ছে। এসব অভিযোগ গত ৩০ জুলাই উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় উত্থাপিত হয়েছে, যেখানে সদস্যরা জমি গ্রহীতাদের ভোগান্তির বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে অভিযুক্তরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

দলিল লেখকদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। তবে লাইসেন্স হারানোর ভয়ে তারা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারছেন না। জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এই দুর্নীতির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলের মতোই এখনও জমি গ্রহীতাদের বাড়তি টাকা দিতে হচ্ছে। সপ্তাহে তিনদিন রেজিস্ট্রির কাজে প্রায় ৪-৫ লাখ টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে।

এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, ব্যবস্থায় কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসেনি। সময় বদলেছে, ব্যক্তি বদলেছে, দুর্নীতির ধরন একই রয়ে গেছে। জমি রেজিস্ট্রির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রক্রিয়া এভাবে দুর্নীতির কবলে পড়ে থাকলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে না। এই দুর্নীতির শৃঙ্খল ভাঙতে হলে কঠোর তদারকি, স্বচ্ছতা এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এই অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব নয়। সমাজের সব স্তরে দুর্নীতিবিরোধী সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ ন্যায্য সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়।

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে দুর্নীতির অভিযোগ আমলে নিন

নারী ও শিশু নির্যাতনের উদ্বেগজনক চিত্র

ভবদহের জলাবদ্ধতা: শিক্ষা ও জীবনযাত্রার উপর অব্যাহত সংকট

সৈয়দপুরে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের দুর্দশা

মবের নামে মানুষ হত্যা : সমাজ কোথায় যাচ্ছে?

‘জুলাই জাতীয় সনদ’ : কেন প্রশ্ন তোলা যাবে না

সুন্দরবন রক্ষায় টেকসই ব্যবস্থা নিন

মামলা, গ্রেপ্তার, জামিন : প্রশ্নবিদ্ধ আইনের শাসন

শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাশ্রমে সাঁকো নির্মাণ : ঐক্য ও উদ্যমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

বন্যা ও ভাঙন : দ্রুত ব্যবস্থা নিন

অ্যান্টিভেনমের সরবরাহ নিশ্চিত করুন

ভূমি অফিসে ঘুষ বন্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিন

জন্ম নিবন্ধনে জটিলতা দূর করা জরুরি

‘সাদা পাথর’ লুটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিন

সার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ আমলে নিন

তরুণদের জন্য আলাদা বুথ! সিদ্ধান্ত কার? কেন?

চিকিৎসক সংকটে জীবননগরের স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

গণপিটুনির সংস্কৃতি রুখতে হবে এখনই

সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনের ঘটনার বিচার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন

ইউনিয়ন পরিষদে নাগরিক সেবায় ভোগান্তির অবসান ঘটান

সড়কে মৃত্যু : দুর্ঘটনা নাকি অব্যবস্থাপনার ফল?

অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর

নির্বাচনের ঘোষণায় স্বস্তি, তবে আছে অনেক চ্যালেঞ্জ

‘জুলাই ঘোষণাপত্র’: কিছু জিজ্ঞাসা

বয়স্ক ভাতা পেতে আর কত অপেক্ষা

ডিএনডি এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নিন

গণঅভ্যুত্থানের এক বছর: প্রত্যাশায় কী প্রাপ্তি

অবৈধ মিনি পেট্রোল পাম্পের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

অজগর হত্যা : বন্যপ্রাণীর সুরক্ষায় চাই জনসচেতনতা

লেভেল ক্রসিংয়ে প্রাণহানি : অব্যবস্থাপনার দুর্ভাগ্যজনক চিত্র

ঠাকুরগাঁওয়ে জলাতঙ্ক টিকার সংকট দূর করুন

পাহাড় কাটা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

বনমালীনগরে পাকা সড়কের জন্য আর কত অপেক্ষা

সার বিতরণ ব্যবস্থায় অনিয়ম বন্ধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন

গাবতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংকট দূর করুন

গ্যাস অপচয় ও অব্যবস্থাপনার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই

tab

opinion » editorial

জমি রেজিস্ট্রিতে ঘুষের বোঝা: সাধারণ মানুষের ভোগান্তি

রোববার, ২৪ আগস্ট ২০২৫

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে ঘুষ আদায় করার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমন অভিযোগ আগেও ছিল। দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও সেখানে অনিয়ম-দুর্নীতি হচ্ছে বলে জানা গেছে। শুধু নাম বদলেছে, ব্যক্তি বদলেছে; কিন্তু ঘুষের পরিমাণ ও পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এ নিয়ে সংবাদ-এ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

জানা গেছে, পৌরসভার আওতাধীন আবাসিক জমির ক্ষেত্রে শতকপ্রতি ২০ হাজার টাকা, বাস্তু ও স্থাপনাবিহীন জমির জন্য শতকপ্রতি ৫ হাজার টাকা এবং ওয়ারিশ সত্ত্বের জমি রেজিস্ট্রির জন্য শতকপ্রতি ১ হাজার টাকা বাড়তি গুনতে হচ্ছে সেবাপ্রার্থীদেরকে। এছাড়া, হিন্দু বিধবা নারীদের জমি বিক্রির ক্ষেত্রে ১০ হাজার টাকা এবং নামের ভুল সংশোধনের জন্য ৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হচ্ছে। পাওয়ার দলিল থেকে কবলা করতে গেলেও ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হচ্ছে। এসব অভিযোগ গত ৩০ জুলাই উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় উত্থাপিত হয়েছে, যেখানে সদস্যরা জমি গ্রহীতাদের ভোগান্তির বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে অভিযুক্তরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

দলিল লেখকদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। তবে লাইসেন্স হারানোর ভয়ে তারা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারছেন না। জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এই দুর্নীতির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলের মতোই এখনও জমি গ্রহীতাদের বাড়তি টাকা দিতে হচ্ছে। সপ্তাহে তিনদিন রেজিস্ট্রির কাজে প্রায় ৪-৫ লাখ টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে।

এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, ব্যবস্থায় কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসেনি। সময় বদলেছে, ব্যক্তি বদলেছে, দুর্নীতির ধরন একই রয়ে গেছে। জমি রেজিস্ট্রির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রক্রিয়া এভাবে দুর্নীতির কবলে পড়ে থাকলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে না। এই দুর্নীতির শৃঙ্খল ভাঙতে হলে কঠোর তদারকি, স্বচ্ছতা এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এই অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব নয়। সমাজের সব স্তরে দুর্নীতিবিরোধী সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ ন্যায্য সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়।

back to top