নীলফামারীর সৈয়দপুর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে গর্ভবতী মা, প্রসূতি ও শিশুদের জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ২০১৩ সালে, ২০ লাখ টাকা মূল্যের একটি অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চালকের পদ না থাকায় এবং চালক নিয়োগ না হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্সটি গ্যারেজে পড়ে থেকে অকেজো হয়ে গেছে। ফলে, উপজেলার প্রায় ৩ লাখ মানুষ জরুরি চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মুমূর্ষ রোগীদের রংপুর বা দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স বা মাইক্রোবাসের উপর নির্ভর করতে গিয়ে তাদের বাড়তি ভাড়া দিতে হচ্ছে। এ নিয়ে সংবাদ-এ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
উক্ত চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রতিদিন অর্ধশতাধিক প্রসূতি নারী সেবা নেন। কিন্তু প্রতিশ্রুত ১৬ ধরনের সেবার মধ্যে কয়টি সেবা পাওয়া যায় আর কয়টি পাওয়া যায় না সেটা একটা প্রশ্ন। চিকিৎসাকন্দ্রে রোগ নির্ণয়ের জন্য কোনো ল্যাব নেই। ফলে রোগীদের বাইরের ল্যাব থেকে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। এমনকি একটি আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন থাকলেও তা চালানোর জন্য দক্ষ লোকের অভাবে অব্যবহৃত পড়ে আছে। জরাজীর্ণ ভবনে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম, আর গ্যারেজে অ্যাম্বুলেন্সের চারপাশে আগাছার জঙ্গল গজিয়ে উঠেছে।
জানা গেছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব সম্প্রতি কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছেন। তাকে অ্যাম্বুলেন্স ও চালকের সমস্যাসহ অন্যান্য সমস্যার কথা জানানো হয়েছে। তিনি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এক যুগ ধরে অ্যাম্বুলেন্স অকেজো পড়ে থাকার পরও কেন এই সমস্যার সমাধান হয়নি? চালকের পদ সৃষ্টি এবং নিয়োগের মতো একটি সাধারণ প্রক্রিয়া এত বছর ধরে ঝুলে থাকা কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ছাড়া আর কী হতে পারে?
এই পরিস্থিতি শুধু সৈয়দপুরের নয়, দেশের অনেক স্বাস্থ্য কেন্দ্রেরই বাস্তবতা। সরকারি বরাদ্দ ও সুবিধা থাকলেও সঠিক পরিকল্পনা, তদারকি ও বাস্তবায়নের অভাবে সেগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ে। মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সেবার মান বাড়াতে হলে অ্যাম্বুলেন্স সচল করা, দক্ষ চিকিৎসক ও ল্যাব সুবিধা নিশ্চিত করা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি।
রোববার, ২৪ আগস্ট ২০২৫
নীলফামারীর সৈয়দপুর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে গর্ভবতী মা, প্রসূতি ও শিশুদের জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ২০১৩ সালে, ২০ লাখ টাকা মূল্যের একটি অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চালকের পদ না থাকায় এবং চালক নিয়োগ না হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্সটি গ্যারেজে পড়ে থেকে অকেজো হয়ে গেছে। ফলে, উপজেলার প্রায় ৩ লাখ মানুষ জরুরি চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মুমূর্ষ রোগীদের রংপুর বা দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স বা মাইক্রোবাসের উপর নির্ভর করতে গিয়ে তাদের বাড়তি ভাড়া দিতে হচ্ছে। এ নিয়ে সংবাদ-এ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
উক্ত চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রতিদিন অর্ধশতাধিক প্রসূতি নারী সেবা নেন। কিন্তু প্রতিশ্রুত ১৬ ধরনের সেবার মধ্যে কয়টি সেবা পাওয়া যায় আর কয়টি পাওয়া যায় না সেটা একটা প্রশ্ন। চিকিৎসাকন্দ্রে রোগ নির্ণয়ের জন্য কোনো ল্যাব নেই। ফলে রোগীদের বাইরের ল্যাব থেকে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। এমনকি একটি আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন থাকলেও তা চালানোর জন্য দক্ষ লোকের অভাবে অব্যবহৃত পড়ে আছে। জরাজীর্ণ ভবনে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম, আর গ্যারেজে অ্যাম্বুলেন্সের চারপাশে আগাছার জঙ্গল গজিয়ে উঠেছে।
জানা গেছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব সম্প্রতি কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছেন। তাকে অ্যাম্বুলেন্স ও চালকের সমস্যাসহ অন্যান্য সমস্যার কথা জানানো হয়েছে। তিনি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এক যুগ ধরে অ্যাম্বুলেন্স অকেজো পড়ে থাকার পরও কেন এই সমস্যার সমাধান হয়নি? চালকের পদ সৃষ্টি এবং নিয়োগের মতো একটি সাধারণ প্রক্রিয়া এত বছর ধরে ঝুলে থাকা কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ছাড়া আর কী হতে পারে?
এই পরিস্থিতি শুধু সৈয়দপুরের নয়, দেশের অনেক স্বাস্থ্য কেন্দ্রেরই বাস্তবতা। সরকারি বরাদ্দ ও সুবিধা থাকলেও সঠিক পরিকল্পনা, তদারকি ও বাস্তবায়নের অভাবে সেগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ে। মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সেবার মান বাড়াতে হলে অ্যাম্বুলেন্স সচল করা, দক্ষ চিকিৎসক ও ল্যাব সুবিধা নিশ্চিত করা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি।