alt

opinion » editorial

ভবদহের জলাবদ্ধতা: শিক্ষা ও জীবনযাত্রার উপর অব্যাহত সংকট

: সোমবার, ২৫ আগস্ট ২০২৫

যশোরের মণিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলার নিচু এলাকাগুলো গত দুই মাস ধরে জলাবদ্ধ হয়ে আছে। এই অঞ্চলের প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দি জীবনযাপন করছে। সেখানকার বসতবাড়ি, ফসলি মাঠ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে শিক্ষা ব্যবস্থার উপর এই জলাবদ্ধতা মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। মণিরামপুরের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। আর কোথাও কোথাও তাঁবু টানিয়ে বা বিকল্প স্থানে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চলছে। কেশবপুরে ২২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ২৫টি মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসা প্লাবিত হয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে।

ভবদহের জলাবদ্ধতা কোনো নতুন সমস্যা নয়। দশকের পর দশক ধরে এই অঞ্চলের মানুষ জলাবদ্ধতার সমস্যায় ভুগছে। অভিযোগ রয়েছে, অপরিকল্পিত স্লুইসগেট নির্মাণ, নদী-খালের নাব্য হ্রাস এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে ভবদহ এখন জলাভূমিতে পরিণত হয়েছে।

জলাবদ্ধতার প্রভাব শুধু কৃষি ও মানুষের জীবনযাত্রার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎও এর করুণ শিকারে পরিণত হয়েছে। মণিরামপুরের ভুলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁবু টানিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার মতো চিত্র এই সংকটের গভীরতা তুলে ধরে।

গত এক দশকে ভবদহ প্রকল্পে ১২৫০ কোটি টাকা ব্যয় হলেও কোনো টেকসই সমাধান হয়নি। ১৯৯৮ সালে টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) পদ্ধতি প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হলেও, ভুল সিদ্ধান্ত এবং অর্থের অপচয়ের কারণে তা ব্যর্থ হয়েছে।

সরকার সম্প্রতি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ১৪০ কোটি টাকার প্রকল্পের প্রস্তাব গ্রহণ করেছে, যা আশার আলো দেখাচ্ছে। তবে, অতীত অভিজ্ঞতার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ-সংশয় রয়েছে যে, এই প্রকল্প কতটা ফলপ্রসু হবে। আমরা আশা করব, প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়িত হবে এবং জলাবদ্ধতার সমস্যার টেকসই সমাধান হবে। ভবদহের জলাবদ্ধতা সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। এর স্থায়ী সমাধান হবে সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে দুর্নীতির অভিযোগ আমলে নিন

নারী ও শিশু নির্যাতনের উদ্বেগজনক চিত্র

সৈয়দপুরে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের দুর্দশা

জমি রেজিস্ট্রিতে ঘুষের বোঝা: সাধারণ মানুষের ভোগান্তি

মবের নামে মানুষ হত্যা : সমাজ কোথায় যাচ্ছে?

‘জুলাই জাতীয় সনদ’ : কেন প্রশ্ন তোলা যাবে না

সুন্দরবন রক্ষায় টেকসই ব্যবস্থা নিন

মামলা, গ্রেপ্তার, জামিন : প্রশ্নবিদ্ধ আইনের শাসন

শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাশ্রমে সাঁকো নির্মাণ : ঐক্য ও উদ্যমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

বন্যা ও ভাঙন : দ্রুত ব্যবস্থা নিন

অ্যান্টিভেনমের সরবরাহ নিশ্চিত করুন

ভূমি অফিসে ঘুষ বন্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিন

জন্ম নিবন্ধনে জটিলতা দূর করা জরুরি

‘সাদা পাথর’ লুটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিন

সার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ আমলে নিন

তরুণদের জন্য আলাদা বুথ! সিদ্ধান্ত কার? কেন?

চিকিৎসক সংকটে জীবননগরের স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

গণপিটুনির সংস্কৃতি রুখতে হবে এখনই

সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনের ঘটনার বিচার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন

ইউনিয়ন পরিষদে নাগরিক সেবায় ভোগান্তির অবসান ঘটান

সড়কে মৃত্যু : দুর্ঘটনা নাকি অব্যবস্থাপনার ফল?

অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর

নির্বাচনের ঘোষণায় স্বস্তি, তবে আছে অনেক চ্যালেঞ্জ

‘জুলাই ঘোষণাপত্র’: কিছু জিজ্ঞাসা

বয়স্ক ভাতা পেতে আর কত অপেক্ষা

ডিএনডি এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নিন

গণঅভ্যুত্থানের এক বছর: প্রত্যাশায় কী প্রাপ্তি

অবৈধ মিনি পেট্রোল পাম্পের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

অজগর হত্যা : বন্যপ্রাণীর সুরক্ষায় চাই জনসচেতনতা

লেভেল ক্রসিংয়ে প্রাণহানি : অব্যবস্থাপনার দুর্ভাগ্যজনক চিত্র

ঠাকুরগাঁওয়ে জলাতঙ্ক টিকার সংকট দূর করুন

পাহাড় কাটা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

বনমালীনগরে পাকা সড়কের জন্য আর কত অপেক্ষা

সার বিতরণ ব্যবস্থায় অনিয়ম বন্ধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন

গাবতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংকট দূর করুন

গ্যাস অপচয় ও অব্যবস্থাপনার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই

tab

opinion » editorial

ভবদহের জলাবদ্ধতা: শিক্ষা ও জীবনযাত্রার উপর অব্যাহত সংকট

সোমবার, ২৫ আগস্ট ২০২৫

যশোরের মণিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলার নিচু এলাকাগুলো গত দুই মাস ধরে জলাবদ্ধ হয়ে আছে। এই অঞ্চলের প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দি জীবনযাপন করছে। সেখানকার বসতবাড়ি, ফসলি মাঠ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে শিক্ষা ব্যবস্থার উপর এই জলাবদ্ধতা মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। মণিরামপুরের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। আর কোথাও কোথাও তাঁবু টানিয়ে বা বিকল্প স্থানে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চলছে। কেশবপুরে ২২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ২৫টি মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসা প্লাবিত হয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে।

ভবদহের জলাবদ্ধতা কোনো নতুন সমস্যা নয়। দশকের পর দশক ধরে এই অঞ্চলের মানুষ জলাবদ্ধতার সমস্যায় ভুগছে। অভিযোগ রয়েছে, অপরিকল্পিত স্লুইসগেট নির্মাণ, নদী-খালের নাব্য হ্রাস এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে ভবদহ এখন জলাভূমিতে পরিণত হয়েছে।

জলাবদ্ধতার প্রভাব শুধু কৃষি ও মানুষের জীবনযাত্রার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎও এর করুণ শিকারে পরিণত হয়েছে। মণিরামপুরের ভুলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁবু টানিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার মতো চিত্র এই সংকটের গভীরতা তুলে ধরে।

গত এক দশকে ভবদহ প্রকল্পে ১২৫০ কোটি টাকা ব্যয় হলেও কোনো টেকসই সমাধান হয়নি। ১৯৯৮ সালে টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) পদ্ধতি প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হলেও, ভুল সিদ্ধান্ত এবং অর্থের অপচয়ের কারণে তা ব্যর্থ হয়েছে।

সরকার সম্প্রতি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ১৪০ কোটি টাকার প্রকল্পের প্রস্তাব গ্রহণ করেছে, যা আশার আলো দেখাচ্ছে। তবে, অতীত অভিজ্ঞতার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ-সংশয় রয়েছে যে, এই প্রকল্প কতটা ফলপ্রসু হবে। আমরা আশা করব, প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়িত হবে এবং জলাবদ্ধতার সমস্যার টেকসই সমাধান হবে। ভবদহের জলাবদ্ধতা সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। এর স্থায়ী সমাধান হবে সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।

back to top