যশোরের মণিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলার নিচু এলাকাগুলো গত দুই মাস ধরে জলাবদ্ধ হয়ে আছে। এই অঞ্চলের প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দি জীবনযাপন করছে। সেখানকার বসতবাড়ি, ফসলি মাঠ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে শিক্ষা ব্যবস্থার উপর এই জলাবদ্ধতা মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। মণিরামপুরের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। আর কোথাও কোথাও তাঁবু টানিয়ে বা বিকল্প স্থানে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চলছে। কেশবপুরে ২২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ২৫টি মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসা প্লাবিত হয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে।
ভবদহের জলাবদ্ধতা কোনো নতুন সমস্যা নয়। দশকের পর দশক ধরে এই অঞ্চলের মানুষ জলাবদ্ধতার সমস্যায় ভুগছে। অভিযোগ রয়েছে, অপরিকল্পিত স্লুইসগেট নির্মাণ, নদী-খালের নাব্য হ্রাস এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে ভবদহ এখন জলাভূমিতে পরিণত হয়েছে।
জলাবদ্ধতার প্রভাব শুধু কৃষি ও মানুষের জীবনযাত্রার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎও এর করুণ শিকারে পরিণত হয়েছে। মণিরামপুরের ভুলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁবু টানিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার মতো চিত্র এই সংকটের গভীরতা তুলে ধরে।
গত এক দশকে ভবদহ প্রকল্পে ১২৫০ কোটি টাকা ব্যয় হলেও কোনো টেকসই সমাধান হয়নি। ১৯৯৮ সালে টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) পদ্ধতি প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হলেও, ভুল সিদ্ধান্ত এবং অর্থের অপচয়ের কারণে তা ব্যর্থ হয়েছে।
সরকার সম্প্রতি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ১৪০ কোটি টাকার প্রকল্পের প্রস্তাব গ্রহণ করেছে, যা আশার আলো দেখাচ্ছে। তবে, অতীত অভিজ্ঞতার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ-সংশয় রয়েছে যে, এই প্রকল্প কতটা ফলপ্রসু হবে। আমরা আশা করব, প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়িত হবে এবং জলাবদ্ধতার সমস্যার টেকসই সমাধান হবে। ভবদহের জলাবদ্ধতা সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। এর স্থায়ী সমাধান হবে সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।
সোমবার, ২৫ আগস্ট ২০২৫
যশোরের মণিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলার নিচু এলাকাগুলো গত দুই মাস ধরে জলাবদ্ধ হয়ে আছে। এই অঞ্চলের প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দি জীবনযাপন করছে। সেখানকার বসতবাড়ি, ফসলি মাঠ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে শিক্ষা ব্যবস্থার উপর এই জলাবদ্ধতা মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। মণিরামপুরের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। আর কোথাও কোথাও তাঁবু টানিয়ে বা বিকল্প স্থানে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চলছে। কেশবপুরে ২২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ২৫টি মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসা প্লাবিত হয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে।
ভবদহের জলাবদ্ধতা কোনো নতুন সমস্যা নয়। দশকের পর দশক ধরে এই অঞ্চলের মানুষ জলাবদ্ধতার সমস্যায় ভুগছে। অভিযোগ রয়েছে, অপরিকল্পিত স্লুইসগেট নির্মাণ, নদী-খালের নাব্য হ্রাস এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে ভবদহ এখন জলাভূমিতে পরিণত হয়েছে।
জলাবদ্ধতার প্রভাব শুধু কৃষি ও মানুষের জীবনযাত্রার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎও এর করুণ শিকারে পরিণত হয়েছে। মণিরামপুরের ভুলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁবু টানিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার মতো চিত্র এই সংকটের গভীরতা তুলে ধরে।
গত এক দশকে ভবদহ প্রকল্পে ১২৫০ কোটি টাকা ব্যয় হলেও কোনো টেকসই সমাধান হয়নি। ১৯৯৮ সালে টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) পদ্ধতি প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হলেও, ভুল সিদ্ধান্ত এবং অর্থের অপচয়ের কারণে তা ব্যর্থ হয়েছে।
সরকার সম্প্রতি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ১৪০ কোটি টাকার প্রকল্পের প্রস্তাব গ্রহণ করেছে, যা আশার আলো দেখাচ্ছে। তবে, অতীত অভিজ্ঞতার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ-সংশয় রয়েছে যে, এই প্রকল্প কতটা ফলপ্রসু হবে। আমরা আশা করব, প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়িত হবে এবং জলাবদ্ধতার সমস্যার টেকসই সমাধান হবে। ভবদহের জলাবদ্ধতা সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। এর স্থায়ী সমাধান হবে সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।