কুমিল্লার দেবিদ্বারের খলিলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ দখলের অভিযোগ উঠেছে। যে মাঠে প্রতিদিন শিশুদের কুচকাওয়াজ, জাতীয় সংগীত, শারীরিক শিক্ষা ও খেলাধুলার কথা, সেই মাঠ বছরের পর বছর ধরে সিএনজি-অটোরিকশা, পিকআপ, হকার এবং নির্মাণসামগ্রীর দখলে। কমবেশি আড়াইশ’ শিক্ষার্থীর এই বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করলেও তাদের কথা শোনার মতো দায়িত্বশীল কেউ যেন নেই। এ নিয়ে সংবাদ-এ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
শ্রেণিকক্ষের মাত্র কয়েক ফুট দূরে সারিবদ্ধভাবে অটোরিকশা দাঁড়িয়ে থাকে। হর্ন আর কোলাহলের কারণে পড়াশোনা ব্যাহত হয়। অবশ্য অটোরিকশা চালকদের সমস্যাও বাস্তব। তাদের জন্য আলাদা স্ট্যান্ড নেই, তাই তারা বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে রাখেন। কিন্তু কোনো শিশুদের অধিকার ও নিরাপত্তাকে ক্ষুণ্য করা চলে না কোনো যুক্তিতেই। বিদ্যালয়ের মাঠ কোনোভাবেই গাড়ির গ্যারেজ বা বাজারে পরিণত হওয়ার কথা নয়। শিশুর বিকাশ, শৃঙ্খলা, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা যে পরিবেশে নিশ্চিত হওয়ার কথা, সেই পরিবেশই এখন সবচেয়ে বেশি ব্যাহত।
প্রশ্ন হচ্ছে, বছরের পর বছর ধরে এই বিশৃঙ্খলা চলছে কীভাবে। আমরা বলতে চাই, বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে হবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে। বাজার ও ইউনিয়ন পরিষদের পাশে একটি সুনির্দিষ্ট স্ট্যান্ড তৈরি করে অটোরিকশা চালকদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে। বিদ্যালয় চত্বরে নিরাপত্তা বেড়া, গেট এবং নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করে এমন যে কোনো প্রকার দখল বা অনিয়মকে ‘সহনীয়’ ভাবার সংস্কৃতি ভাঙা জরুরি। কারণ শিশুদের বিকাশের যে সময়টি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তা আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। একটি বিদ্যালয়ের মাঠ যখন অটোরিকশা স্ট্যান্ডে পরিণত হয়, তখন ক্ষতি শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, সমগ্র সমাজের। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও শৃঙ্খলাপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
কুমিল্লার দেবিদ্বারের খলিলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ দখলের অভিযোগ উঠেছে। যে মাঠে প্রতিদিন শিশুদের কুচকাওয়াজ, জাতীয় সংগীত, শারীরিক শিক্ষা ও খেলাধুলার কথা, সেই মাঠ বছরের পর বছর ধরে সিএনজি-অটোরিকশা, পিকআপ, হকার এবং নির্মাণসামগ্রীর দখলে। কমবেশি আড়াইশ’ শিক্ষার্থীর এই বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করলেও তাদের কথা শোনার মতো দায়িত্বশীল কেউ যেন নেই। এ নিয়ে সংবাদ-এ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
শ্রেণিকক্ষের মাত্র কয়েক ফুট দূরে সারিবদ্ধভাবে অটোরিকশা দাঁড়িয়ে থাকে। হর্ন আর কোলাহলের কারণে পড়াশোনা ব্যাহত হয়। অবশ্য অটোরিকশা চালকদের সমস্যাও বাস্তব। তাদের জন্য আলাদা স্ট্যান্ড নেই, তাই তারা বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে রাখেন। কিন্তু কোনো শিশুদের অধিকার ও নিরাপত্তাকে ক্ষুণ্য করা চলে না কোনো যুক্তিতেই। বিদ্যালয়ের মাঠ কোনোভাবেই গাড়ির গ্যারেজ বা বাজারে পরিণত হওয়ার কথা নয়। শিশুর বিকাশ, শৃঙ্খলা, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা যে পরিবেশে নিশ্চিত হওয়ার কথা, সেই পরিবেশই এখন সবচেয়ে বেশি ব্যাহত।
প্রশ্ন হচ্ছে, বছরের পর বছর ধরে এই বিশৃঙ্খলা চলছে কীভাবে। আমরা বলতে চাই, বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে হবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে। বাজার ও ইউনিয়ন পরিষদের পাশে একটি সুনির্দিষ্ট স্ট্যান্ড তৈরি করে অটোরিকশা চালকদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে। বিদ্যালয় চত্বরে নিরাপত্তা বেড়া, গেট এবং নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করে এমন যে কোনো প্রকার দখল বা অনিয়মকে ‘সহনীয়’ ভাবার সংস্কৃতি ভাঙা জরুরি। কারণ শিশুদের বিকাশের যে সময়টি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তা আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। একটি বিদ্যালয়ের মাঠ যখন অটোরিকশা স্ট্যান্ডে পরিণত হয়, তখন ক্ষতি শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, সমগ্র সমাজের। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও শৃঙ্খলাপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।