সওজের জমি বেহাত, প্রশাসন কী করছে?

নীলফামারীর সৈয়দপুরে সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের প্রায় ৪০০ কোটি টাকার জমি দখল হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, রাষ্ট্রীয় সম্পদ উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না। এ নিয়ে সংবাদ-এ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

জানা গেছে, প্রায় এক শতাব্দী আগে দিনাজপুর-ঢাকা সড়ক নির্মাণের সময় এই জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। নকশা অনুযায়ী রাস্তার প্রশস্ততা ৬০ থেকে ৭০ ফুট হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক জায়গায় তা অনেক কমে গেছে। রাস্তার দুই পাশের বড় অংশ দখল হয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ও পথচারীদের ভোগান্তি বাড়ছে। জনসংখ্যা ও যানবাহনের সংখ্যা বহুগুণ বেড়েছে, কিন্তু রাস্তার জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

প্রভাবশালীরা এই সরকারি জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করে কোটি কোটি টাকা আয় করছে। দীর্ঘদিন ধরে এই দখল প্রক্রিয়া চললেও সওজ ও প্রশাসনের দায়িত্বশীল ভূমিকা দেখা যায়নি; বরং সরকারকে শহরের বাইরে ব্যয়বহুল বাইপাস সড়ক নির্মাণ করতে হয়েছে। হাজার একর আবাদি জমি নষ্ট হয়েছে, খরচ হয়েছে শত শত কোটি টাকা। অথচ শহরের ভেতরের মহাসড়কের জমি উদ্ধার করে প্রশস্ত করা হলে এই অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রয়োজন পড়ত না।

আমলাতান্ত্রিক গাফিলতি ও নজরদারির অভাবে জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ অপচয় হচ্ছে। আমরা বলতে চাই, অবৈধ দখল অবিলম্বে উচ্ছেদ করতে হবে। শুধু নোটিস দেয়ার আশ্বাসে সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ। নথি যাচাই করে সঠিক সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

সম্প্রতি