মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার ফুলদী নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। প্রায় দুই যুগ আগে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও আজও সেখানে সেতু নির্মিত হয়নি। ফলক পড়ে আছে, কিন্তু মানুষের দুর্ভোগের অবসান হয়নি।
ফুলদী নদী মেঘনা নদীর একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। এই নদীর দুই পাড়ে গজারিয়া উপজেলার লাখো মানুষের বসবাস। প্রতিদিন নানান কাজ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও জীবিকার প্রয়োজনে হাজার হাজার মানুষকে এই নদী পার হতে হয়। সেখানে আজও মানুষের ভরসা ইঞ্জিনচালিত খেয়া নৌকা। ফেরি থাকলেও তা অনিয়মিত।
রাতে বা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় নদী পারাপার প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। জরুরি রোগী, অগ্নিকা- কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সময়মতো এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে পৌঁছানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তখন বিকল্প হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ঘুরে প্রায় ২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়।
২০০২ সালে সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর একাধিকবার সমীক্ষা হলেও আজ পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। একটি উপজেলা সদর এলাকায়, যেখানে প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম কেন্দ্রীভূত, সেখানে দুই যুগেও একটি সেতু না হওয়া কেবল অবহেলা নয়, এটি উন্নয়ন পরিকল্পনার ব্যর্থতা।
ফুলদী নদীর ওপর একটি সেতু হলে মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। স্থানীয়দের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং প্রশাসনিক সেবার গতি বাড়বে। একই সঙ্গে এটি একটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকেও উন্মুক্ত করবে। উন্নয়নের এমন একটি সুস্পষ্ট ও যৌক্তিক দাবিকে আর অবহেলার চোখে দেখার সুযোগ নেই।