পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের ২৮ বছর পার হলেও পাহাড়ে শান্তি ও নিরাপত্তা আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি; বরং সাম্প্রতিক সময়ে মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে এমনটাই দাবি করেছেপার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি। তাদের প্রকাশিত ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক বছরে পাহাড়ে ২৬৮টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগী ছয় শতাধিক জুম্ম মানুষ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব ঘটনার মধ্যে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গ্রেপ্তার, ঘরবাড়ি ও ধর্মীয় স্থাপনায় তল্লাশি, নারী ও শিশুর ওপর সহিংসতা, এমনকি শিশু ধর্মান্তরের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
জনসংহতি সমিতির অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। চুক্তির দুই-তৃতীয়াংশ ধারা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন কমিশন গঠনের সময় আদিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর কোনো প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়নি। পাহাড়ের বাসিন্দারা বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন। অথচ মানুষ ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বৈষম্যহীন সমাজের প্রত্যাশা করেছিল। অন্তর্বর্তী সরকার সেই প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পেরেছে সেই প্রশ্ন উঠেছে।
পাহাড়ে সহিংসতার বড় কারণ ভূমিবিরোধ। সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনাও ঘটেছে বিভিন্ন সময়ে। এসব ঘটনা পাহাড়ের সামাজিক সহাবস্থানকে দুর্বল করে তুলেছে। সেখানে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক সময় সশস্ত্র গোষ্ঠীর কর্মকান্ডের দায় সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়।
আমরা বলতে চাই, পাহাড়ের বাসিন্দাদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, ভূমি সমস্যার ন্যায্য সমাধান, মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জবাবদিহি নিশ্চিত না করলে পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ফিরবে না।