পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার জেলেপল্লীর মানুষ দাদন আর ব্যাংক-এনজিওর ঋণের চাপে দুঃসহ এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন। তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে মাছ ধরতে নেমেও তারা আশানুরূপ মাছ পাচ্ছেন না। অল্প যে মাছ মেলে, তা বিক্রি করে সংসার চালানো আর ঋণের কিস্তি দেয়া বড় দায়। এ নিয়ে সংবাদ-এ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ ধরা বন্ধ থাকলেও ঋণের কিস্তি বন্ধ থাকে না। সময়মতো কিস্তি দিতে না পারলে নতুন ঋণ পাওয়া যায় না। অনেক জেলে বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে নদীতে যান শুধু কিস্তির টাকা জোগাড় করতে। নদী-খাল-বিল থেকে আশানুরূপ মাছও মেলে না অনেক সময়।
দশমিনার উপকূলীয় জেলেপল্লীগুলোতে দাদন ব্যবসায়ীদের চাপ এখন নিত্যদিনের বিষয়। যে কোনো পরিস্থিতিতেই দাদনের টাকা শোধ করতেই হবে। ঋণ-কিস্তি-ঋণ। এই দুষ্টচক্র থেকে জেলেরা বেরোতে পারছেন না।
নিষিদ্ধ জালের অবাধ ব্যবহার, প্রজনন মৌসুমে ডিমওয়ালা মাছ ধরা, কৃষি জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার এবং মৎস্য আইনের দুর্বল প্রয়োগ প্রভৃতি কারণে প্রাকৃতিক উৎস থেকে মাছ আহোরণ কঠিন হয়ে পড়েছে জেলেদের জন্য। মাছের খামার করার সামর্থ্য রাখেন না অনেকে জেলেই।
জেলেদের এই সংকট থেকে বের করতে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগী হতে হবে। তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিতে হবে। দাদন ব্যবস্থার লাগাম টানতে হবে। জেলেদের জন্য হয়রানি ছাড়া সহজ শর্তে ঋণ দেয়া যায় কিনা সেটা দেখতে হবে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে কিস্তি স্থগিত করা দরকার। দাদন-ঋণের ফাঁদ ভেঙে জেলেদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরানো না গেলে দশমিনার জেলেপল্লীর ভবিষ্যৎ আরও অন্ধকারে তলিয়ে যাবে।