সামরিক অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘটনা বিশ্ব রাজনীতিতে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং শক্তিধর দেশের একতরফা সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এই অভিযানের পর ভেনেজুয়েলা বলছে, এটা সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন। জাতিসংঘ মহাসচিবও বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি এটিকে একটি ‘বিপজ্জনক নজির’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, মাদুরো মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত। তাকে বিচারের মুখোমুখি করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
প্রশ্ন হলো, কোনো দেশের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ থাকলেই কি অন্য একটি রাষ্ট্র সেখানে সামরিক হামলা চালাতে পারে? আন্তর্জাতিক আইন কি সেই অনুমতি দেয়? জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী, নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন বা সরাসরি আত্মরক্ষার পরিস্থিতি ছাড়া কোনো দেশের ওপর শক্তি প্রয়োগ বৈধ নয়।
রাশিয়া, চীনসহ অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানের সমালোচনা করেছে। অনেক আইন বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। তারা বলছেন, জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়া বা আত্মরক্ষার স্পষ্ট কারণ ছাড়া এ ধরনের শক্তি প্রয়োগ নিষিদ্ধ। এটি একটি সার্বভৌম দেশের সার্বভৌমত্বের সরাসরি লঙ্ঘন।
যুক্তরাষ্ট্র অতীতে ইরাক, লিবিয়া বা আফগানিস্তানে অভিযান চালিয়েছে। ইরাকে সাদ্দাম হোসেন, লিবিয়ায় গাদ্দাফিকে উৎখাত করা হয়েছে। কিন্তু সেসব দেশে স্থিতিশীলতা আসেনি; বরং বিশৃঙ্খলা, যুদ্ধ এবং অস্থিরতা বেড়েছে। ভেনেজুয়েলায়ও এখন শাসনব্যবস্থা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র গণতন্ত্র, মানবাধিকারের কথা বলে। প্রশ্ন হচ্ছে, গণতন্ত্র বা মানবাধিকার কি একটি দেশের আইনকে অন্য দেশে জোর করে চাপিয়ে দেয়াকে সমর্থন করে। যদি মাদুরোর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকে তাহলে আন্তর্জাতিক আদালত বা কূটনৈতিক পথে ব্যবস্থা নেয়া যেত। এ ধরনের বলপ্রয়োগ বিশ্বকে আরও অস্থির করবে। ভবিষ্যতে অন্য শক্তিশালী দেশগুলো হয়তো দুর্বল দেশের ওপর শক্তি প্রয়োগের অন্যায় উৎসাহ পাবে।
বিশ্ব শান্তি ও আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য বড় শক্তিগুলোর দায়িত্ব আরও বেশি। আইনকে পাশ কাটিয়ে একতরফা সামরিক পদক্ষেপ সেই দায়িত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ভেনেজুয়েলার ঘটনায় এখন সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে, সংযম ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা।