জলমহাল থেকে অবৈধ মাটি উত্তোলন: ব্যবস্থা নিন

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার রুপবাবুরহাটে সরকারি জলমহাল থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল উঠেছে। এই ঘটনার তদন্ত হয়েছে, প্রতিবেদন জমা পড়েছে, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এ নিয়ে সংবাদ-এ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

জানা গেছে, জলমহালটি সরকারি খাস সম্পত্তি। উপজেলা প্রশাসন এখান থেকে রাজস্ব আদায় করছে। স্থানীয় এক বিএনপি নেতা অনানুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিয়ে প্রতি মাসে এক লাখ টাকা জমা দেয়ার কথা বলে জলমহালের নিয়ন্ত্রণ নেন। তারপর থেকে মাছ ধরার পাশাপাশি ড্রেজার দিয়ে বালু-মাটি কেটে বিক্রি শুরু করেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করলে ভূমি কর্মকর্তা তদন্ত করে প্রমাণ পান। সেপ্টেম্বর মাসে প্রতিবেদনও জমা দেন। প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, নিষেধ করা সত্ত্বেও অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন চলছে, বালুমহাল আইন অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। বাস্তবে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আইনের শাসন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কিনা সেই প্রশ্ন উঠেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন, ড্রেজার চালানোর কোনো সুযোগ নেই, খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন। পদক্ষেপ নিতে কত সময় লাগে সেটা আমরা জানতে চাইব।

দেশের সম্পদ রক্ষা করা প্রশাসনের দায়িত্ব। অবৈধ মাটি উত্তোলনের ফলে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। নিয়ম না মেনে মাটি তোলা হলে জলাশয়ের পরিবেশ ধ্বংস হয়, বন্যা ও ভূমিক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ায়। আমরা বলতে চাই, উক্ত অভিযোগের সুরহা করতে হবে। দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে; নইলে এ ধরনের লুটপাট থামবে না।

সম্প্রতি