গোবিন্দগঞ্জে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় মাত্র ৬টি ভাটার লাইসেন্স ছিল। সেটাও মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। সেখানে ৩৫-৪০টি ইটভাটা রয়েছে। যেগুলোর বেশিরভাগেরই নেই লাইসেন্স। আইন উপেক্ষা করে এসব ভাটা গড়ে উঠেছে কৃষিজমিতে, স্কুল-কলেজের পাশে, এমনকি জনবহুল এলাকায়। ফলে উর্বর জমি, ফসল, গাছপালা, পরিবেশ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ নিয়ে সংবাদ-এ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

অবৈধ ভাটাগুলোতে জ্বালানি হিসেবে পোড়ানো হচ্ছে কয়লার পাশাপাশি কাঠ। ফলে কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যাচ্ছে আশপাশের এলাকা। তিন ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে নেয়ায় সেই জমি চাষের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। কৃষকরা কিছু টাকার বিনিময়ে মাটি বিক্রি করলেও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিটা তাদেরই।

নয়ম অনুযায়ী ইটভাটা স্থাপনের জন্য জেলা প্রশাসনের অনুমতি, পরিবেশ ছাড়পত্র প্রয়োজন হয়। কৃষিজমির মাটি না কাটার বিধান রয়েছে। কিন্তু গোবিন্দগঞ্জে এসব নিয়মের কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। প্রশ্ন হচ্ছে, প্রশাসনের নাকের ডগায় দিন-রাত অবৈধ ভাটা চলছে কীভাবে। গত মাসে মাত্র একটি ভাটায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয়েছে। বাকি ৩০-৩৫টি ভাটা আছে বহাল তবিয়তে।

পরিবেশকর্মীরা বলছেন, প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। ভাটা মালিকদেরও সচেতন হতে হবে। ভাটা স্থাপন করতে হবে আইন মেনে। অকৃষি জমিতে ভাটা স্থাপন করতে হবে।

উন্নয়নের জন্য ইটভাটা দরকার। কিন্তু তা যেন পরিবেশ ও কৃষি ধ্বংসের কারণ না হয়। অবৈধ ভাটাগুলোর বিরুদ্ধে এখনই কঠোর অভিযান চালাতে হবে। অন্যথায় গোবিন্দগঞ্জের উর্বর জমি ও সবুজ প্রকৃতি স্থায়ী ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

সম্প্রতি