ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ভবনগর গ্রাম কালোমুখো হনুমানের বিচরণস্থল। গ্রামজুড়ে এই বিরল প্রজাতির অবাধ চলাচল একদিকে দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে, অন্যদিকে সংরক্ষণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট করে তুলছে। সংবাদ-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, একসময় পর্যাপ্ত গাছপালা ও প্রাকৃতিক খাদ্যের কারণে এই অঞ্চলে হনুমানদের টিকে থাকতে তেমন সমস্যা ছিল না। কিন্তু গাছ কাটা, বাগান উজাড়ের কারণে তাদের স্বাভাবিক খাদ্য ও আবাস সংকুচিত হয়েছে।
খাবারের অভাবে অনেক হনুমান লোকালয়ে প্রবেশ করছে, আবার কোনো কোনো হনুমান এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছে। স্থানীয়ভাবে একজন যুবকের ব্যক্তিগত উদ্যোগে সরকারি বরাদ্দকৃত খাবার বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। শতাধিক হনুমানের জন্য এই ব্যবস্থা যে যথেষ্ট নয়, তা সংশ্লিষ্টরাও স্বীকার করেছেন। ফলে খাদ্য সংকট পুরোপুরি কাটছে না।
বন বিভাগ জানিয়েছে, নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। জেলায় প্রাকৃতিক বন না থাকায় অভয়ারণ্য ঘোষণার সুযোগ সীমিত। একই সঙ্গে সামাজিক বনায়নের পরিমাণও কমে গেছে। বন বিভাগের হিসাবেই দেখা যাচ্ছে, ভবনগর গ্রামে কালোমুখো হনুমানের সংখ্যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
হনুমান সংরক্ষণের উদ্যোগগুলো খন্ডিত ও স্বল্পমেয়াদি। কেবল খাবার সরবরাহ করে দীর্ঘমেয়াদে এই বিরল প্রজাতিকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। প্রয়োজন সুপরিকল্পিত সংরক্ষণ নীতি, নিয়মিত ও পর্যাপ্ত খাদ্যব্যবস্থা। বনায়নের মাধ্যমে নিরাপদ আবাস সৃষ্টি করাও জরুরি। এসব কাজে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা দরকার।
কালোমুখো হনুমান শুধু একটি এলাকার সম্পদ নয়, এটি দেশের জীববৈচিত্র্যের অংশ। সংরক্ষণে পরিকল্পনার ঘাটতি থাকলে এই প্রজাতি ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে পারে। তাই এখনই সমন্বিত ও বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।