কৃষকের ঘামেই দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। সেই কৃষক যদি চাহিদামতো সার না পান তাহলে সেটি শুধু একটি এলাকার ঘটনা থাকে না। এটি সার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। কুষ্টিয়ার কুমারখালীর যদুবয়রা ইউনিয়নের নিদেনবাজারে বিসিআইসি অনুমোদিত ডিলার পয়েন্টে যে ঘটনা ঘটেছে, তা সেই বাস্তবতাই সামনে এনেছে।
সংবাদ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নিদেনবাজারে কৃষকদের চাহিদামতো সার দেয়া হয়নি। প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে আগে সাব ডিলারদের সার দেয়া হয়েছে। সার শেষ হয়ে যাওয়ার পর দোকান বন্ধ করে ডিলারের লোকজন চলে গেছে।
প্রশ্ন হচ্ছে, যদি চাহিদা বেশি থাকে, তবে আগেভাগে কেন সুষ্ঠু তালিকা, সময়সূচি ও বিতরণব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলো না? কেন মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ও তদারকি আগে থেকেই জোরদার করা হয়নি? পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এটি সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়।
সারের বরাদ্দ যে কম তা নয়। বরং সমস্যা দেখা দিয়েছে বণ্টন, সমন্বয় ও স্বচ্ছতার ঘাটতিতে। ডিলার, সাব ডিলারদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রযেছে। সার বিতরণে কৃষকদের অগ্রাধিকার দেয়া হলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না।
কৃষি কর্মকর্তারা সার দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে নামের তালিকা করেছেন। আশা করা যায়, এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ নেবে। একই সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের উচিত, সার বিতরণে কোনো কারসাজি বা অনিয়ম হয়েছে কিনা তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া।