রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলে চলমান তীব্র শৈত্যপ্রবাহ জনজীবনে বহুমুখী চাপ তৈরি করেছে। রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বনিম্ন ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ঘন কুয়াশা ও আর্দ্রতার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সড়ক ও নৌপথে চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষের কর্মসংস্থান কমে গেছে। কৃষিতে, বিশেষ করে বোরো ধানের বীজতলায় নেতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী শীতের তীব্রতা আরও কিছুদিন থাকতে পারে।
শীতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষের ওপর। বয়স্ক ও শিশুরাও এর ভুক্তভোগী। আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র ও আশ্রয়ের অভাব হতদরিদ্র মানুষের ঝুঁকি বাড়িয়েছে। কৃষকরা বীজতলায় ছত্রাকজনিত রোগ ও চারা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কার কথা জানাচ্ছেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শ থাকলেও মাঠপর্যায়ে সহায়তা ও নজরদারি জোরদার না হলে ক্ষতির মাত্রা বাড়তে পারে।
রংপুর বিভাগের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সেখানে দীর্ঘদিন সূর্যের দেখা না পাওয়া, কনকনে ঠান্ডা ও হিমেল বাতাসের কারণে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসাসেবা চরম চাপে পড়েছে। শিশু ওয়ার্ডে বেড সংকট, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতাই প্রকাশ পায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রোগীর চাপের কথা স্বীকার করছে। তবে বিকল্প ব্যবস্থা ও অস্থায়ী সম্প্রসারণের উদ্যোগ এখনও অপর্যাপ্ত।
শীতে কাবু মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। জরুরি ভিত্তিতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। শীতার্ত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণ করতে হবে। অনেক স্থানে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাতে যেন ত্রাণসামগ্রী পৌঁছায় সেটা নিশ্চিত করা দরকার। হাসপাতালে অস্থায়ী ওয়ার্ড ও জনবল বাড়ানো জরুরি, স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য ও কৃষি বিভাগ এবং স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা দরকার।
সময়ের সঙ্গে শীতের তীব্রতা কমবে। তবে প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি থেকে গেলে ভুক্তভোগীদের ক্ষতি দীর্ঘস্থায়ী হয়। আগাম পরিকল্পনা ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপই এই শৈত্যপ্রবাহে জনজীবনের চাপ কমাতে পারে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: ইউআইটিএসে শুরু হচ্ছে হাল্ট প্রাইজ প্রতিযোগিতা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: ভ্রমণের পেমেন্ট বিকাশ করে গ্রাহকরা জিতে নিলো নেপাল ও কক্সবাজার ট্যুর
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: বিকাশের নতুন উদ্যোগ ‘বি হাইভ’