প্রাথমিকে শিক্ষক সংকট

বছরের শুরুতে নতুন পাঠ্যপুস্তক বিতরণের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষায় স্বাভাবিক গতি ফেরানোর কথা থাকলেও ভাটিবলাকী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তা সম্ভব হয়নি। গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের এই বিদ্যালয়ে ৬২ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন একজন মাত্র শিক্ষক। ফলে নিয়মিত পাঠদান ও বিদ্যালয় পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে সংবাদ-এ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক অবসরজনিত ছুটিতে গেছেন। একজন সহকারী শিক্ষক বদলি হয়েছেন। আরেকজন শিক্ষক আছেন প্রশিক্ষণে। অবকাঠামো ও শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকায় সেখানে শিক্ষা কার্যক্রমে ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। একজন শিক্ষকের পক্ষে একাধিক শ্রেণির পাঠদান, প্রশাসনিক কাজ ও বছরের শুরুতে প্রয়োজনীয় কাজ একসঙ্গে সম্পন্ন করা দূরুহ।

বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হলে শিশুদের শেখার ধারাবাহিকতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অভিভাবকরা তাই শিক্ষক সংকটকে প্রাথমিক শিক্ষার মানের জন্য ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন। প্রাথমিক শিক্ষা শিশুদের মৌলিক অধিকার। সেখানে দীর্ঘদিন এ ধরনের ঘাটতি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। শিক্ষক সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় থেকে শিক্ষক প্রেষণে দেয়ার উদ্যোগের কথা জানা গেছে। তবে কবে নাগাদ তা কার্যকর হবে সেটা নিশ্চিত নয়।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট নতুন নয়। এই সংকট দূর করতে স্থানীয় পর্যায়ের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। শিক্ষক বদলি, প্রশিক্ষণ ও ছুটি ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় জোরদার করা প্রয়োজন। শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই পাঠদান স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে সেটা আমাদের আশা।

সম্প্রতি

Sangbad Image

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: বিকাশের নতুন উদ্যোগ ‘বি হাইভ’