কৃষিতে নারীর শ্রম, মজুরিতে বৈষম্য

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় কৃষি কাজে নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। ঘরের কাজের পাশাপাশি তারা মাঠের কাজেও নিয়মিত শ্রম দিচ্ছেন। ধানের বীজ রোপণ, সার প্রয়োগ, আগাছা দমন, কীটনাশক ছিটানো, ধান কাটা ও মাড়াই সব পর্যায়েই নারীদের উপস্থিতি চোখে পড়ে। অনেকে আবার বাড়ির আশপাশে অনাবাদি জমিতে শাকসবজি ও ফলমূল আবাদ করে পরিবারের আয়ে বাড়তি অবদান রাখছেন।

সমস্যা হলো, কৃষি কাজে নারীদের চাহিদা থাকলেও পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে বৈষম্য রয়ে গেছে। সংবাদ-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, একই ধরনের কাজ ও একই সময় শ্রম দিলেও পুরুষ শ্রমিক যেখানে ৫০০ টাকা মজুরি পান, সেখানে নারী শ্রমিকরা পান ৩০০ থেকে সাড়ে ৩৫০ টাকা। কাজের সময় ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেও তারা সমান আচরণ পান না বলে অভিযোগ রয়েছে। মৌসুমি কৃষিকাজে নারীদের কাজের সুযোগ সীমিত থাকায় অনেক সময় তারা কম মজুরিতেও কাজ করতে বাধ্য হন।

সরকারি সহায়তার ক্ষেত্রেও বৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে। কৃষি উপকরণ, সারবীজ, কৃষক কার্ড ও ঋণ সুবিধার বড় অংশ এখনও পুরুষ কৃষকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে মাঠে সক্রিয় ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও নারী কৃষকরা প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন।

স্থানীয় জমির মালিকরা স্বীকার করছেন, নারী শ্রমিকরা কাজে মনোযোগী ও দায়িত্বশীল। আবার এলাকাভেদে পুরুষ শ্রমিকের সংকট থাকায় কৃষিকাজ সচল রাখতে নারীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে সমান কাজের জন্য সমান মজুরি এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করা শুধু ন্যায়সংগতই নয়, কৃষির স্থায়িত্বের জন্যও প্রয়োজনীয়।

এটি ইতিবাচক বিষয় যে, কৃষিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে। তবে এই পরিবর্তন টেকসই করতে হলে মজুরি বৈষম্য দূর করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপশি সরকারি সুবিধায় নারীদের সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। নারীর ন্যায্য মজুরির প্রশ্নে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগেই কৃষিতে নারীর শ্রমের ন্যায্য মূল্যায়ন নিশ্চিত হতে পারে।

সম্প্রতি