নিপাহ সংক্রমণ: আতঙ্ক নয়, চাই সতর্কতা

দেশের ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। নিপাহ ভাইরাসের বিস্তারের ধরনে পরিবর্তনের তথ্য উদ্বেগজনক। রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে শনাক্ত হওয়া চারটি নিপাহ সংক্রমণের প্রতিটি ক্ষেত্রেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া প্রথমবারের মতো শীতকাল ছাড়াই একটি অ-মৌসুমি নিপাহ সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে।

আইইডিসিআরের তথ্য অনুযায়ী, নওগাঁ, ভোলা, রাজবাড়ী ও নীলফামারীতে গত বছর নিপাহ রোগী শনাক্ত হয়। নওগাঁয় আক্রান্ত এক শিশুর সংক্রমণের কারণ হিসেবে জানা যাচ্ছে, শিশুটি বাদুড়ের আধা-খাওয়া ফল খেয়েছিল। এতদিন খেজুরের কাঁচা রসকে নিপাহ সংক্রমণের প্রধান উৎস হিসেবে ধরা হতো। ভাইরস সংক্রমণের নতুন উৎসের ঘটনা থেকে বোঝা যায়, বাদুড়ের লালা বা মূত্রে দূষিত যেকোনো ফল থেকেও সারা বছর সংক্রমণ ঘটতে পারে।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রায় এক-চতুর্থাংশ ক্ষেত্রে একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে অন্যজনের মধ্যে রোগ ছড়াতে পারে। আইইডিসিআর এমন তথ্য জানিয়েছে। এতে পরিবার-পরিজন ও স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়তি ঝুঁকির মুখে পড়েন। দেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্তদের মৃত্যুহার অনেক বেশি।

এই পরিস্থিতিতে জনসচেতনতা ও ব্যক্তিগত সতর্কতাই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা। আবার অহেতুক আতঙ্ক যেন না ছড়ায় সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। কাঁচা খেজুরের রস পান না করা, আধা-খাওয়া ফল না খাওয়া এবং ফল ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়ার মতো সাধারণ অভ্যাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে পারে।

পাশাপাশি নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার জন্য জনসাধারণকে উদ্ধুদ্ধ করতে হবে। নাগরিকদের সচেতন করতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সাধারণ মানুষের সচেতনতার বিকল্প নেই।

সম্প্রতি