মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় গত এক বছরে ৬৭টি বন্যপ্রাণী লোকালয় থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই তথ্য একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়। বনাঞ্চলের পরিবেশ ধ্বংস, খাদ্য সংকট এবং মানুষের ক্রমবর্ধমান হস্তক্ষেপের কারণে বন্যপ্রাণীরা তাদের প্রাকৃতিক আবাস ছেড়ে মানুষের বসতিতে চলে আসছে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত কর্মকান্ডের ফল।
উদ্ধার হওয়া প্রাণীদের তালিকা দেখলেই বোঝা যায়, শ্রীমঙ্গলের বনভূমির জীববৈচিত্র কতটা সমৃদ্ধ ছিল। অজগর, বনবিড়াল, বানর, পাখি ও বিভিন্ন প্রজাতির সাপ-সবই বনবাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব প্রাণী এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বনাঞ্চলে নির্বিচারে গাছ কাটা, ঝোপঝাড় উজাড়, কৃষি সম্প্রসারণ, বসতবাড়ি ও পর্যটন স্থাপনা নির্মাণের ফলে তাদের খাদ্য ও আশ্রয় দুটোই কমে যাচ্ছে।
উদ্বেগের বিষয় হলো, দেশে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতনতা কম। কোথাও কোথাও প্রাণী হত্যা কিংবা ধরে খাওয়ার অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। এতে শুধু আইন লঙ্ঘনই হচ্ছে না, পরিবেশের ভারসাম্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অবৈধ দখল ও বন উজাড়ের পেছনে প্রভাবশালী চক্রের ভূমিকা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এটা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগ রয়েছে।
বন্যপ্রাণী লোকালয়ে আসা মানেই মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়া। বিষয়টি মানুষের নিরাপত্তা ও জীববৈচিত্র উভয়ের জন্যই হুমকি। দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে। বনভূমি রক্ষা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
শ্রীমঙ্গলের ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষা করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এতে প্রকৃতি বাঁচে। মানুষের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তাও এর সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
সারাদেশ: চুনারুঘাটে জনতার হাতে টমটম চোর আটক
আন্তর্জাতিক: সরকার উৎখাতের পর সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিচ্ছে নেপাল
আন্তর্জাতিক: মার্কিন সিনেটে যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব নাকচ