প্রধান শিক্ষক সংকট ও প্রাথমিক শিক্ষার দুরবস্থা

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ২০১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১৬টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। ২৯টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদও শূন্য। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে। এ নিয়ে সংবাদ-এ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয় পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। তাকে নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ, প্রশিক্ষণ, সভা ও সরকারি কর্মসূচির জন্য উপজেলা ও জেলায় যেতে হয়। এতে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময় কমে যায়। আবার সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় বাকি শিক্ষকদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। এতেকরে নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদানে বিঘ্ন ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রশাসনিক কর্তৃত্বের ঘাটতিও দেখা দিচ্ছে অনেক ক্ষেত্রে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য সহকারী শিক্ষক একই মর্যাদার হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে নির্দেশনা কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে বিদ্যালয়ের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা দুর্বল হয়ে পড়ে। সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা দুর্বল হলে শিক্ষার মান রক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

উপজেলা শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, অবসর, বদলি, মৃত্যু এবং মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রধান শিক্ষকের পদগুলো শূন্য রয়েছে। শূন্য পদের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

আমরা বলতে চাই, দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়বে। প্রাথমিক শিক্ষা হলো শিক্ষাব্যবস্থার মূল স্তম্ভ। এই স্তরে ঘাটতি থাকলে পরবর্তী ধাপগুলোতেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। মাদারগঞ্জ উপজেলার বিদ্যালয়গুলোতে দ্রুত প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি, নতুন শিক্ষক নিয়োগ এবং শূন্য পদে কার্যকর পদায়ন জরুরি। একই সঙ্গে মামলা সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে হবে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে বলে আমরা আশা করতে চাই। সমস্যার যথাযথ সমাধান না হলে তার দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে শিক্ষার্থীদের ওপর। এটা কাম্য হতে পারে না।

সম্প্রতি