ডিমলায় অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা

তিস্তা নদীবেষ্টিত নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য কেনা আধুনিক রেসকিউ বোট দুটি এখন কার্যত অচল। প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা এই উদ্ধারযানগুলোর উদ্দেশ্য ছিল বন্যাকালীন সময়ে দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষের জীবন রক্ষা করা। কিন্তু কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতায় সেই উদ্দেশ্য পূরণ হয়নি; বরং সরকারি সম্পদ নষ্ট হওয়ার দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে।

সংবাদ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের আওতায় ‘নীলসাগর-১’ ও ‘নীলসাগর-২’ নামে দুটি আধুনিক রেসকিউ বোট বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতিটি বোটের দাম ছিল ৬৬ লাখ টাকার বেশি। কয়েক বছরের মধ্যেই এই বোটগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

একটি বোট নদীর তীরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থেকে ক্ষয়ে যাচ্ছে। অন্যটি গত বন্যার সময় পানিতে ডুবে গিয়ে এখন বালির নিচে চাপা পড়েছে। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ইঞ্জিন, বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ ও কাঠামো প্রায় সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এ অবস্থায় বোটটির অধিকাংশ কার্যকারিতা আর ফেরানো সম্ভব কিনা সেটা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

উদ্বেগের বিষয় হলো, এই ক্ষতির জন্য দায় নির্ধারণ বা কোনো তদন্তের উদ্যোগ দেখা যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, মেরামতের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। আবার বোট চালকদের বেতন বন্ধ থাকায় জনবল ব্যবস্থাপনাও ভেঙে পড়েছে। ফলে দুর্যোগের সময় উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর মতো প্রস্তুতি নেই বললেই চলে।

তিস্তার মতো দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় উদ্ধার সক্ষমতা ধ্বংস হচ্ছে- এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এই অবহেলার সংস্কৃতি থেকে বের হতে হবে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সম্প্রতি