জনবল সংকটে ব্যহত চিকিৎসাসেবা

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার আমুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটে ভুগছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার দুই লক্ষাধিক মানুষের জন্য একমাত্র সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র। অচল যন্ত্রপাতির কারণে হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

সংবাদ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, হাসপাতালটিতে চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ পদ বছরের পর বছর শূন্য রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় সার্জারি বন্ধ। রেডিওলজিস্টের অভাবে এক্সরে ইউনিট এক দশক ধরে অচল। প্যাথলজি ল্যাব কার্যত অকার্যকর। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় অনেক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে রোগীদের ওপর। সাধারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্যও রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিক বা দূরের হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসাব্যয় বাড়ছে, যা দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পাওয়ার যে উদ্দেশ্য, তা এখানে পূরণ হচ্ছে না।

বর্তমানে হাতেগোনা কয়েকজন চিকিৎসক দিয়ে প্রতিদিন শতাধিক রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে। এতে সেবার মান যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি চিকিৎসক ও কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এটি পুরো ব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করে দিচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনবল চেয়ে বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এই উদাসীনতা স্বাস্থ্যব্যবস্থার পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতির দিকেই ইঙ্গিত করে।

গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সই প্রথম ও প্রধান ভরসা। সেখানে যদি প্রয়োজনীয় জনবল ও কার্যকর সেবা না থাকে, তবে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া কঠিন হয়ে পড়ে। আমুয়া হাসপাতালের সংকট দূর করতে প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে- এমনটাই আমরা দেখতে চাই।

সম্প্রতি