চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) সাম্প্রতিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে অনুসন্ধান চালায়। দুদকের একটি দল সেখানে নথিপত্র পর্যালোচনা করে।
জানা গেছে, গত দেড় বছরে চবিতে প্রায় আড়াই শত জনের নিয়োগ হয়েছে। ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় ১১৩ জনের নিয়োগ অনুমোদিত হয়। নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকায় উপ-উপাচার্যর (অ্যাকাডেমিক) মেয়ে ও রেজিস্ট্রারের ভাইয়ের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।
ফার্সি, ফিন্যান্স ও ক্রিমিনোলজি বিভাগসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের আত্মীয়দের নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। দুদকের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ফার্সি বিভাগের একটি নিয়োগে পরিকল্পনা কমিটির সুপারিশ না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও মার্কশিট না পাওয়ায় এই প্রক্রিয়ার বৈধতা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
দুদক জানিয়েছে, নথিপত্র যাচাই, প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ মতামত নেওয়া এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। উপাচার্য ক্যাম্পাসে না থাকায় কিছু অতিরিক্ত নথি পরবর্তীতে সংগ্রহ করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জনবল সংকটের কারণে নিয়োগ অপরিহার্য ছিল। বিশেষ করে নাট্যকলা, সংগীত ও স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগে নিয়োগ দেওয়া জরুরি ছিল। কর্তৃপক্ষের দাবি, সব প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছে। ফার্সি বিভাগের ক্ষেত্রে ২০২১ সালের পুরোনো বিজ্ঞপ্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
আমরা বলতে চাই, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিয়মানুবর্তিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদক অনুসন্ধান করছে সেটা একটা ভালো উদ্যোগ। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এমনটাই আমরা দেখতে চাই।
বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো পর্যায়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি কাম্য নয়। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কেউ অনিয়ম-দুর্নীতি করলে তার বা তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। অনিয়েমের মাধ্যমে কোনো নিয়োগের ঘটনা ঘটলে সেটা বাতিল করতে হবে। এ ধরনের ঘটনা যেন ভবিষ্যতে না ঘটে, সে জন্য নিয়োগ নীতিমালার কঠোর প্রয়োগ ও তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।