নির্বাচন, নিরাপত্তা ও মানবাধিকার প্রশ্ন

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হলেও এর আগে নারী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা বাড়ার অভিযোগ উদ্বেগজনক।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে। নারীদের স্বাধীন চলাফেরা ও সামাজিক অংশগ্রহণ অনেক ক্ষেত্রে সীমিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কট্টর ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর কিছু বক্তব্য ও কর্মসূচির পর নারী ও মেয়েরা নানানভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হচ্ছে।

ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়টিও প্রতিবেদনে গুরুত্ব পেয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতার একাধিক ঘটনার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগের কথাও বলা হয়েছে।

রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণের চিত্রও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অতীতে দেশের সর্ব্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে নানান স্তারে নারী নেতৃত্বের নজির থাকলেও বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীর প্রতিনিধিত্ব সীমিত। আসন্ন নির্বাচনে অনেক রাজনৈতিক দলে নারী প্রার্থী না থাকার তথ্য সেই বাস্তবতাকেই তুলে ধরে।

এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে সরকারকে নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মধ্যে সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ ও চুক্তি পালনের বাধ্যবাধকতা রক্ষা এবং নারী ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো রয়েছে। এগুলো নতুন কোনো দাবি নয়।

নাগরিকের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকারকে আরও সতর্ক থাকতে হবে। নারী ও সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা শুধু মানবাধিকার ইস্যু নয়, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশের সঙ্গেও বিষয়টি সরাসরি যুক্ত। অন্তর্বর্তী সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এটি একটি পরীক্ষা। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে সচেতন আছেন এবং যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন।

সম্প্রতি