দেশের কারাগারগুলোতে বন্দীদের চিকিৎসা ব্যবস্থায় নানান ক্ষেত্রে গুরুতর ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে। সেখানে অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। কারা অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে হাসপাতালে নেয়ার পথে গত পাঁচ বছরে ৫০৯ জন বন্দীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সংবাদ-এ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
দেশে ৭৫টি কারাগারে বন্দী আছেন ৮৪ হাজারের বেশি মানুষ। বন্দীদের হাসপাতালে নেয়ার জন্য রয়েছে মাত্র ২৭টি অ্যাম্বুলেন্স। অনেক কারাগারে কোনো অ্যাম্বুলেন্সই নেই। আবার কোথাও পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ যান দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। ফলে অসুস্থ বন্দীদের রিকশা, ভ্যান বা পিকআপে করে হাসপাতালে নিতে হয় প্রায় ক্ষেত্রেই। জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে এ ধরনের ব্যবস্থা যে কতটা অকার্যকর ও বিপজ্জনক তা প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে বোঝা যাচ্ছে।
২০১৯ সালে ৯৭টি অ্যাম্বুলেন্স কেনার প্রস্তাব দেয়া হলেও তা কমিয়ে ৪৭টিতে আনা হয়। সেই ফাইল সাত বছর ধরে মন্ত্রণালয়ে ঝুলে আছে। এই দীর্ঘসূত্রতার কারণ কী সেটা আমরা জানতে চাইব। বন্দীদের জীবন রক্ষার বিষয়টি আদৌ কি অগ্রাধিকার পাচ্ছে?
চিকিৎসক সংকট কারাগারে চিকিৎসাসেবা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। কাগজে-কলমে ১০৩টি চিকিৎসকের পদ থাকলেও বাস্তবে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। অধিকাংশ কারাগারে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা নেই। রাতে কেউ অসুস্থ হলে চিকিৎসক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, ফলে ঝুঁকি আরও বাড়ে। অস্থায়ীভাবে জেলা হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক এনে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা হয়। তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়।
কারাগারে বন্দী থাকা মানে চিকিৎসার অধিকার হারানো নয়। আইন ও সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে থাকা প্রত্যেক নাগরিকের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রেরই। এ দায়িত্ব পালনে গাফিলতি হলে তার জবাবদিহি থাকা উচিত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসক সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। ঝুলে থাকা ফাইল নিষ্পত্তি করতে হবে। পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করতে হবে। শূন্য চিকিৎসক পদে নিয়োগ দিতে হবে দ্রুত। ভুলে গেলে চলবে না যে, বন্দীদের জীবন রক্ষা রাষ্ট্রের মানবিক ও আইনগত দায়িত্ব।
অর্থ-বাণিজ্য: শেয়ারবাজারে বড় উত্থান, বেড়েছে লেনদেনও
অর্থ-বাণিজ্য: ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার
আন্তর্জাতিক: ইরানে ট্রাম্পের জয়ের সহজ কোনো পথ নেই
সারাদেশ: বাগাতিপাড়ায় যুবক নিখোঁজ