মাদারীপুরে যাত্রীবাহী বাস ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে সাতজন মারা গেছেন, আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। এই ঘটনা দেশের সড়ক নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আবারও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ পথে এ ধরনের দুর্ঘটনা নতুন নয়; বরং এটি একটি দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যার পুনরাবৃত্তি।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুখোমুখি সংঘর্ষের পর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে প্রাণহানির পাশাপাশি আহতের ঘটনা ঘটে। এ ধরনের দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সাধারণত একাধিক কারণ কাজ করে। যানবাহনের গতি থাকে অনিয়ন্ত্রিত। ছোট যানবাহনের মহাসড়কে চলাচল করাও একটি সমস্যা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে চালকদের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে।
বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বা ইজিবাইকের মহাসড়কে চলাচল একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এসব যান সাধারণত ধীরগতির। এ ধরনের যানবাহনের সুরক্ষাব্যবস্থাও সীমিত। মহাসড়কে দ্রুতগতির বাস বা ট্রাকের সঙ্গে এসব যান চলাচল বরাবরই ঝুঁকিপূর্ণ। এটা সংশ্লিষ্টদের অজানা নয়। কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও বিকল্প ব্যবস্থার অভাবে প্রায়ই সড়কে এ কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে।
দুর্ঘটনার পর ঘটনা তদন্তে কমিটি ঘটন করা হয়। তবে সেসব তদন্ত আলোর মুখ দেখে কিনা সেটা একটা প্রশ্ন। কোনো তদন্ত যদি আলোর মুখ দেখেও তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না। দুর্ঘটনা ঘটার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কার্যকর করা হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। সড়ক-মহাসড়কে নিয়মিত যানবাহন চলাচল তদারকি করা জরুরি। যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ ও চালকের শৃঙ্খলার বিকল্প নেই। সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। অবৈধ বা অনুপযুক্ত যানবাহনের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রশাসনিক নজরদারি আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা নীতিগত ও ব্যবস্থাপনাগত চ্যালেঞ্জ। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কাম্য নয়। দুর্ঘটনার পর তদন্ত করে দায় সারলে চলবে না। দুর্ঘটনার তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ জরুরি। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সমন্বিত ও ধারাবাহিক উদ্যোগ ছাড়া সড়ক নিরাপদ করা কঠিন।