মানিকগঞ্জের ঘিওরে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সামনে নির্মিত ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ের আন্ডারপাসটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। প্রকল্পটি মূলত বেইলি ব্রিজের অ্যাপ্রোচ সড়ক সোজা করার জন্য নেয়া হয়েছিল। কিন্তু জমি অধিগ্রহণের জটিলতায় সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্ভব হয়নি। ফলে আন্ডারপাসটি কোনো কাজে আসেনি। প্রকল্প স্থগিত রয়েছে। সংবাদ-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এই তথ্য।
দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের অকেজো অবকাঠামোর উদাহরণ রয়েছে। মানিকগঞ্জের ঘিওরেই কালিগঙ্গা নদীর ওপর ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি সেতু তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে সংযোগ সড়কের অভাবে অচল অবস্থায় আছে। একইভাবে জামালপুর, নাটোর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জসহ অন্যান্য জেলায় সেতু বা কালভার্ট নির্মাণের পর সংযোগ সড়ক না থাকায় বা অন্যান্য জটিলতায় অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে সরকারি অর্থের অপচয় ঘটছে এবং স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশিত সুবিধা মিলছে না।
সংযোগ সড়কবিহীন সেতু স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বিঘি্ণত করে। এ কারণে জনগণের মধ্যে সরকারি প্রকল্পের প্রতি আস্থা কমে। রাষ্ট্রের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় রোধে প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানো প্রয়োজন। প্রকল্প নেয়ার আগেই জমি অধিগ্রহণসহ প্রয়োজনীয় সব দিক বিবেচনা করা দরকার। স্থানীয় প্রকৌশলী, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা ও পর্যায়ক্রমিক পর্যালোচনা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। অকেজো অবকাঠামোর ক্ষেত্রে দ্রুত বিকল্প সমাধান বিবেচনা করা উচিত। হয় সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হোক, নয়তো অকেজো সেতু অপসারণ করা হোক।